বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে জারি করা অসহযোগিতার নির্দেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই)। বুধবার (৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইম্পা) মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে সংগঠনটি স্পষ্ট করে, চলচ্চিত্র শিল্পে একতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত ২৫ মে রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে বয়কটের নির্দেশ জারি করেছিল এফডব্লিউআইসিই। সেই আদেশে সংগঠনের সব সদস্য ও কলাকুশলীদের রণবীরের কোনো প্রজেক্টে কাজ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
বিরোধের সূত্রপাত মূলত নির্মাতা ফারহান আখতারের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে রণবীর সিংয়ের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে। শুটিং শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে রণবীর ছবিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। শেষ মুহূর্তে ছবি ছাড়ায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে প্রযোজক। এর প্রেক্ষিতে অভিনেতার কাছে ৪৫ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করে সংস্থাটি। ফেডারেশন এবং অভিনেতার মধ্যে টানাপোড়েনের মাঝে গত মঙ্গলবার (২ জুন) রণবীর সিং এফডব্লিউআইসিই-কে আইনি নোটিশ পাঠান বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

চলচ্চিত্রে রণবীরকে নিষিদ্ধ করার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে তা নাকচ করে দেন এফডব্লিউআইসিই-এর প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত। বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘এফডব্লিউআইসিই কখনোই রণবীরকে নিষিদ্ধ করেনি। গণমাধ্যমের কাছে আমার আবেদন, দয়া করে বিষয়টিকে নিষেধাজ্ঞা হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। এফডব্লিউআইসিই-এর কাউকে নিষিদ্ধ করার কোনো এখতিয়ার নেই। আমাদের সংগঠন কেবল অসহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কোনো টেকনিশিয়ান, কর্মী, প্রযোজক বা শিল্পী কারও সাথে কাজ করতে চান কি না—সেটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’
বিজ্ঞাপন
রণবীর ও ফেডারেশনের বিরোধের মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে প্রডিউসার্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া। গিল্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও টেকনিশিয়ান শুটিং শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রযোজকদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট এবং প্যানোরামা স্টুডিওর মতো সদস্যদের কাছ থেকেও তারা একই ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন। গিল্ড মনে করে, ছবির কাজ শুরুর কয়েক দিন আগে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সিনেমার সুনাম, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং এর সাথে জড়িত শত শত টেকনিশিয়ান ও ক্রু মেম্বারদের জীবিকাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যেকোনো বিরোধ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে প্রডিউসার্স গিল্ড।
ইএইচ/




