শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ঢাকা

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিত, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ  

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিত, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাধার মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটির প্রদর্শনী স্থগিত করায় উত্তাল সামজিক মাধ্যম। নেটিজেনদের বড় অংশ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। এরমধ্যে রয়েছেন একাধিক নির্মাতা এবং বিশিষ্ট নাগরিক।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী স্থগিতে ক্ষুব্ধ চলচ্চিত্র নির্মাতা রেদওয়ান রনি। তিনি লিখেছেন, শুধু বনলতা এক্সপ্রেস নয়, দেশের সকল চলচ্চিত্রের জন‍্য এই ঘটনা চরম উদ্বেগজনক! আজ এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করলে অদূর ভবিষ্যতেই এটা চলচ্চিত্র উন্নয়নের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তথ‍্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এব‍্যপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। শো মাস্ট গো ওন।


বিজ্ঞাপন


অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ দিয়েছেন এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস। সেখানে লিখেছেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আমি দেখেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিছু লোকজন যেসব অভিযোগ তুলে এর প্রদর্শনী বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছে তা শুধু পুরোপুরি ভুল নয়, তা বিদ্বেষমূলক এবং অসুস্থ মানসিকতার লক্ষণ।

শেষে অধ্যাপক লেখেন, অবিলম্বে বৃহৎ আকারে এই শহরে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখাতে হবে। যারা এর প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে তাদেরও এই চলচ্চিত্র দেখে তারপর তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করতে হবে। শুধু তাই নয় এই শহরে চলচ্চিত্র উৎসব, থিয়েটার উৎসব, গানের মেলা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করতে হবে। শিল্পকলা একাডেমির এতে নেতৃত্ব দেওয়াই কাজ। প্রশাসনের দায়িত্ব তাকে সমর্থন দেওয়া, বাধা দেওয়া নয়।

নির্মাতা খন্দকার সুমন লিখেছেন, একটি চলচ্চিত্র পছন্দ না হতে পারে। একটি চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও হতে পারে। কঠোর সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন হতে দেওয়া হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত কি কোনো চাপের মুখে নেওয়া হবে, নাকি আইন ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ভিত্তিতে নেওয়া হবে?
তার কথায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস প্রদর্শনী ঘিরে যা ঘটছে, তা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।


বিজ্ঞাপন


উপন্যাসিক স্বকৃত নোমান লিখেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি মাদ্রাসা ছাত্রদের বাধার মুখে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত না। ওটা রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র। জঙ্গল সলিমপুর যেমন। পাকিস্তানে যেমন। পকেট রাষ্ট্র। সরকারের আইন-কানুন সেখানে চলবে না।

তার কথায়, এটাকে খুব ছোট ঘটনা ভেবে চুপ করে আছেন, তাই না? এটা কত বড় দুর্ঘটনা তা টের পাবেন তখন, যখন দেশের নানা প্রান্তে ছোট ছোট ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে উঠবে এবং সেখানে চলবে কট্টরপন্থার শাসন। একদিন এইসব ছোট ছোট ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোটা বাংলাদেশকে গ্রাস করে ফেলবে, যেমন করেছে আফগানে, যেখানে এখন পিতারা অর্থকষ্টে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে সন্তানকে।

এদিকে পরিচালক তানিম নূর নিজের অবস্থানে অনড়। ঢাকা মেইলকে বলেন, এটা মামদোবাজি নাকি! কয়েকজনের কথায় একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ থাকতে পারে না। আমি আমার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।

আজ শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। আয়োজনে ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কওমি শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর পর বিশৃঙ্খলা এড়াতে সিনেমাটির প্রদর্শন স্থগিত করা হয়।   

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর