মানুষ চলে গেলে শক্তিশালী হয়ে ওঠে স্মৃতিরা। বিশেষ দিনগুলোতে জড়িয়ে ধরে স্বজনদের। কিংবদন্তি ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম না। ঈদ এলে গায়কের অসংখ্য স্মৃতি ঘিরে ধরে তাকে।
ঈদের দিন কীভাবে কাটত আইয়ুব বাচ্চুর— জানতে চাইলে ঢাকা মেইলকে গায়ক পত্নী জানান, ঈদ এলে শিশুর মতো হয়ে যেতেন আইয়ুব বাচ্চু। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে সময় কাটাতেন।
_20260528_104737630.jpg)
বললেন, ‘ঈদের দিন সবাই একসঙ্গে কাটাতাম। আমার শাশুড়ি থাকতেন পল্টন। আমরা ওনার ওখানে চলে যেতাম। নামাজ পড়ে কোরবানি দেওয়া হতো। এক গরুতে হতো না। দুই গরু দিতে হতো। দুপুরে সবাই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির মাংস দিয়ে নান রুটি-পরোটা খেত। বাচ্চু নিজে কম খেত। মানুষকে খাওয়াতে পছন্দ করত। স্টাফরা, ব্যান্ডের সদস্যরা সবাই আসত, খেত। যার যার মাংস নিয়ে যেত।’
ঈদের সকাল থেকে ব্যস্ততা শুরু হতো চন্দনার। তার কথায়, ‘সকালে ঘর গুছিয়ে বাপ-ছেলের পাঞ্জাবি রেডি করে রান্নার তদারকি করতে বসতাম। নামাজ পড়ে এসে সবাই মিলে সেমাই খেত। আমার শাশুড়ি চলে যাওয়ার পর সবাই আমার বাসায় আসত। দুপুরে-রাতে আমার বাসায় খাওয়াটা ট্র্যাডিশনে পরিণত হয়েছিল। সে খুব আড্ডাবাজ ছিল। সারাক্ষণ মানুষ আসত। সবার সঙ্গে মজার মজার গল্প করত। তাছাড়া প্রত্যেক ঈদেই টিভি শো থাকত। ব্যান্ডের সদস্যদের বলত, তোরা বাসায় গিয়ে তৈরি হয়ে চলে যা আমি আসছি। এভাবেই ওর ঈদ কাটত।’

সালামির বেলায়ও কার্পণ্য করতেন না আইয়ুব বাচ্চু। কারও জন্য পাঁচ হাজারের নিচে তুলতেন না। বাচ্চুপত্নী বলেন, ‘ঈদ এলে সে বাচ্চাদের মতো হয়ে যেত। পাঁচ হাজারের নিচে কাউকে সালামি দিত না। নিজের বাচ্চাকে যা দিত আত্মীয় স্বজন, ব্যান্ডের সদস্যদের বাচ্চা, ভাইয়ের বাচ্চাদেরও তাই দিত৷ আমাকেও একই পরিমাণ দিত। সে চলে যাওয়ার পর আর পাইনি।’
হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয় স্ত্রীর জন্য কাঁচা ফুল আনতে ভুলতেন না গায়ক। চন্দনার কথায়, ‘বনানীতে একটি ফুলের দোকান আছে। ঈদের আগের রাতে ওখান থেকে কাঁচা ফুল নিয়ে আসত। ওটাই আমাকে তার দেওয়া ঈদের গিফট। অনেক ফুল আনত। ফুলদানিতে রেখে দিতাম।’

আজ গায়ক নেই। সন্তানেরাও দেশের বাইরে। ঈদগুলো তাই আগের মতো উৎসবমুখর হয়ে ধরা দেয় না। বললেন, ‘ও চলে যাওয়ার পর মায়ের সাথে ঈদ কাটাতাম। মা এখন নেই। বাচ্চারাও দেশের বাইরে৷ একাই ঈদ করা হয়। খারাপ লাগে। ওই অনুভূতি বলে বোঝানোর মতো না। আম্মা নেই, তিনিও (আইয়ুব বাচ্চু) নেই। যা রান্না করছি আমার প্রিয় কোনো মানুষই সেটা খেতে পারছে না।’
আরআর




