সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

এমন পরিস্থিতিতে কখনও পড়তে হয়নি, বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে শফি মণ্ডল

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

এমন পরিস্থিতিতে কখনও পড়তে হয়নি, বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে শফি মণ্ডল

দেশের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবার শরিফে হামলা ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং দরবারপ্রধান আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর গায়কের দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ বাড়িতে পাহারা বসানো হয়েছে। 

খবরটি নিশ্চিত করে ঢাকা মেইলকে শফি মণ্ডল বলেন, ‘ব্যাপারটা পুরোপুরি জানি না। কারণ আমি ঢাকায় অবস্থান করছি।’ 


বিজ্ঞাপন


এরপর বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি দেশের সব দরবারে গান করি। দেড় বছর আগে ওই দরবারে গিয়েছিলাম। একবারই গেছি। সেখানে ছবি তুলেছিলাম। ঘটনার পর ছবিটা পোস্ট করে ভাইরাল করা হয়েছে। কে বা কারা করেছে নির্দিষ্ট করে জানি না। তবে যারা মব করেছেন তাদের কেউ হয়তো করেছেন। ওই ছবির কোনো এক জায়গায় নাকি লেখা ছিল এরপর শফি মণ্ডলের আখড়াবাড়িতে হামলা হবে। তারপর নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে সরকার পদ্দক্ষেপ নিয়েছে।’  

সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বরেণ্য এ বাউল বলেন, ‘আমার পৈতৃক বাড়ি ফিলিপনগরে ছিল। সেটা নদীতে ভেঙে গেছে। পরে হোসেনাবাদে এসে আখড়াবাড়ি করছি। এখনও নির্মাণাধীন। আমার মেয়ে দৌলতপুর কলেজের শিক্ষক। সে দেখাশুনা করছে। ওই বাড়ির-ই নিরাপত্তা দিয়েছে সরকার। পুলিশ পাহারা বসিয়েছে। আমি এতটুকু জানি।’ 

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত নন শফি মণ্ডল। তবে বললেন, ‘আমার বয়স শেষের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে কখনও আমাকে পড়তে হয়নি। জ্ঞানত আমার কারও সঙ্গে দ্বন্দ নেই। কারও নামে অভিযোগও নেই। অভিযোগ রাখলে তো মুক্ত হতে পারব না।’ 


বিজ্ঞাপন


হামলার নিন্দা জানিয়ে শফি মণ্ডল বলেন, ‘কর্মের জন্য আমাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। আমার গানগুলো দরবারি। পরিবেশন করতে বিভিন্ন দরবারে যেতে হয়। আমিও সেই দরবারে গেছি। হামলাকারীরা হয়তো আমাদের এই জগতটাকে পছন্দ করেন না। চান না এই জগতটা থাকুক। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি। কারণ আমরা মানুষের কাজ করি। তার আদর্শ নিয়ে সারা বিশ্বে কাজ করি।’

তার কথায়, ‘শামীম মারা গেছে বলে ব্যাপারটা এত ভাইরাল হয়েছে। এখন আমাকে নিয়েও টানাহেঁচড়া করছে। কোনো জায়গায় কাউকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। তার প্রতি অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারত।’ 

গেল শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবারপ্রধান শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহত শামীম ওই দরবার শরিফের প্রধান এবং এলাকায় কালান্দার বাবা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দরবার শরিফে হামলায় তার তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর