ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সংগীতের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শিল্পীর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে।
ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সামদানি কিংবদন্তির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বলেন, আশা ভোঁসলে বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ দিকে ‘মাল্টি-অর্গান ফেইলিউর’ বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন
অসম প্রেম, স্বামীর ঘরে নির্যাতন, সন্তান পেটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়েন আশা
গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানিয়েছেন, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সর্বসাধারণের জন্য মরদেহ নেওয়া হবে তাঁদের বাসভবনে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

বিজ্ঞাপন
গত শনিবার (১১ এপ্রিল) বুকে সংক্রমণের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় তাঁর নাতনি জনাই ভোঁসলে সামাজিক মাধ্যমে শিল্পীর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে একটি আবেগঘন পোস্টে পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি ‘মাঝা বাল’-এর মাধ্যমে তাঁর গানের ক্যারিয়ার শুরু হয়। ৯২ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন ১২ হাজারের বেশি গান। ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘পিয়া তু আব তো আজা’,‘ও হাসিনা জুলফন ওয়ালি’-এর মতো গানের জন্য ব্যাপক পরিচিতি পান।
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে
'এমন শিল্পী আর জন্মাবে না', আশা ভোঁসলেকে নিয়ে রুনা লায়লা
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকারের ‘পদ্মবিভূষণ’, ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে উপমহাদেশের সংগীত আকাশে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।
ইএইচ/




