গত সপ্তাহে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে প্রেমিকাকে শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেফতার হন ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী। হেনস্তার অভিযোগে গ্রেফতারের দশ দিনের মাথায় জামিনের জন্য আদালতে তোলা হলে আলিপুর আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাঁকে আরও দুই সপ্তাহ কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া শমীকের ফোনে বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে আরও ১৪ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২ মার্চ ফের শমীককে আদালতে তোলা হবে।
আটকের পর পুলিশের জেরার মুখে প্রেমিকাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন শমীক। অভিযোগ স্বীকারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়।

নির্যাতিতা জানিয়েছেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ তিনি বন্ধু শমীকের ফ্ল্যাটে যান। কথাবার্তা বলার পর যখন তিনি রাত নয়টার দিকে ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তাঁকে আটকান শমীক। তরুণী অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছেন কেন, সেই প্রশ্ন করে তাঁর মোবাইল কেড়ে নেন। এরপরই শমীক তাঁকে মারধর শুরু করেন। জোর করে তাঁকে ফ্ল্যাটের একটি ঘরে আটকে রাখেন এবং খুনের হুমকি দেন। অনুমতি ছাড়াই বলপূর্বক ওই তরুণীর পোশাক খোলার চেষ্টা করে যৌন হেনস্তাও করেন।
বিজ্ঞাপন
ওই তরুণীর অভিযোগ, শমীকের অভিভাবকরা ফ্ল্যাটে থাকাকালীনই এই ঘটনাটি ঘটে। ইনফ্লুয়েন্সারকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করেননি বলে জানান তিনি। সারা রাত ধরে অত্যাচারের কারণে মুখ, আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে বলেও পুলিশকে জানান ওই তরুণী। তাঁর দাবি, সকালে উঠে চোখও ভালো করে খুলতে পারছিলেন না। ২৪ ঘণ্টা তাঁকে শমীকের ফ্ল্যাটেই আটকে থাকতে হয় বলে জানান তিনি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে চরম পরিণতি হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন ওই অভিযুক্ত ইনফ্লুয়েন্সার। তবে ৫ ফেব্রুয়ারি সাহস করেই পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা।
ইএইচ/

