অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল সেন্টুর বাসার তালা ভেঙে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গেল ২৫ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ অভিনেতার। খবরটি ঢাকা মেইলকে সেন্টু নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘রামপুরার একটি বাসায় ভাড়া থাকি আমি। গেল ২৫ তারিখ আমার ওই বাসায় তালা ভেঙে ডাকাতি করা হয়েছে। এ সময় শুটিংয়ের কাজে ঢাকার বাইরে ছিলাম আমি।’ ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের সিনেমার ফুটেজসহ হার্ডড্রাইভ, মোবাইল ফোনসহ ঘরের বেশ কিছু ব্যবহার্য ও মূল্যবান দ্রব্যাদি লুট করা হয়েছে বলে দাবি অভিনেতার।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় আজ ১ ফেব্রুয়ারি রামপুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন সেন্টু। ঢাকা মেইলের হাতে তার একটি কপি এসেছে। ওই অভিযোগ পত্রে লিটন ও এনায়েত নামের দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন অভিনেতা।
সেন্টুর লিখিত অভিযোগ হুবহু তুলে দেওয়া হলো। যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘আমি আমার বর্তমান ঠিকানায় জানুয়ারি/২৬ মাস থেকে ১১,০০০/-টাকা ভাড়া ধার্য্য করে জানুয়ারি/২৬ মাসের ভাড়া পরিশোধ করি এবং ১১,০০০/-টাকা অগ্রীম সিকিউরিটি প্রদান করে বসবাস করে আসছি। ইং ২৫/০১/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় আমি মানিকগঞ্জ শুটে চলে যাই। ইং ৩০/০১/২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ৩১/০১/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকার সময় বাসায় আসি।’
লিখিত ওই অভিযোগে সেন্টু আরও লেখেন, ‘তখন নিচ তলায় দারোয়ান আমাকে নিয়ে বাসায় গিয়ে তালা খুলে দিয়ে আসে এবং তালা নিয়ে আসে। তখন আমি বাসায় প্রবেশ করে দেখি আমার বাসার ভেতরে থাকা আমার একটি ২ টেরাবাইট হার্ডড্রাইভ নিয়েছে যেটাতে আমার একটা সিনেমার ফাইনাল ফুটেজ রাখা। সে সিনেমা বানাতে আমাদের খরচ হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা, সেই সাথে নিয়েছে ভিবো মোবাইল, মূল্য অনুমান ২৬,০০০/-টাকা, সিলিং ফ্যান, মূল্য অনুমান ৩,০০০/-টাকা, গ্যাসের কার্ড, আমার চ্যানেল আই ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এর বেস্ট রাইজিং স্টার এর ক্রেস্ট ও কিছু কাপড়, আয়রন ও জুতা নাই।’

এরপর উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তখন দারোয়ান আমাকে বিস্তারিত বলে যে গত ইং ২৫/০১/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার পর অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন লোক ঢুকে তালা ভেঙে জিনিস নিয়ে গেছে। ভেঙে জিনিস নেওয়ার পর আমি আসার আগেই পুলিশ এসে ভিডিও করে নিয়ে গেছে বাসার সকল কিছু। আমি পরে যার কাছ থেকে বাসা নিয়েছি তার কাছে যাওয়ার পর সে অস্বীকার করে সে আমাকে ভাড়া দেয়নি এবং আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে আর আমাকে মারতে আসে। এবং সে বাসায় জিনিস পত্র নেওয়ার পরে বাসায় নাহিদ ইসলামের (জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক) ছবি সম্বলিত এনসিপির ব্যানার বাসায় রেখে যায়।’
অভিযোগে সেন্টু আরও লেখেন, ‘গত ইং ২৫/০১/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় ১নং ও ২নং বিবাদীদ্বয়ের যোগসাজসে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন ডাকাত আমার বাসার তালা ভেঙে প্রবেশ করে আমার বাসার বর্ণিত মালামালগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যায়।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেইলকে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করছি। তবে এটি ডাকাতি না, চুরি। উনি চুরির অভিযোগ করেছেন।’
এদিকে সেন্টু জানান, এ ঘটনাটি নিয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।
আরআর

