ঢালিউডের রাজপুত্র খ্যাত অভিনেতা সালমান শাহ মারা গেলেও আজও বেঁচে আছেন সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে। এই নায়কের অকাল মৃত্যুর খবরে থমকে গিয়েছিল ব্যস্ত জীবনের গতিময় চাকা। কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিল ঢালিউডের আকাশ! ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, যখন অভিনেতার মৃত্যুর খবরটা ছড়িয়ে পড়ে শোকাহত হয়েছিল গোটা দেশ। প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি।
সালমান শাহ যেদিন অনন্তলোকে পাড়ি জমান সেদিন ভিয়েনাতে একটি শো করতে গিয়েছিলেন হুমায়ূন ফরীদি, সুবর্ণ মুস্তাফা এবং শমী কায়সার। ফোনের মাধ্যমে সালমানের মৃত্যুর খবরটি শুনে চিৎকার করে কেঁদে ফেলেন ফরীদি। কয়েক বছর আগে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেছিলেন সালমান শাহের সহকর্মী ও বন্ধু শমী কায়সার।

সালমানের পরলোক গমের দিনের কথা স্মৃতিচারণ করে সাক্ষাৎকারে শমী কায়সার বলেন, ‘আমি, হুমায়ূন ফরীদি এবং সুবর্ণা মুস্তাফা ভিয়েনাতে একটি শো করতে গিয়েছিলাম। আমরা জানতাম না সালমান মারা গেছে। হঠাৎ ফরীদি ভাই ফোনে খবরটি শুনে চিৎকার করে কেঁদে ফেললেন। আমরা দৌড়ে তার কাছে যেতেই তিনি বলতে থাকেন ‘সালমান মারা গেছে, সালমান বেঁচে নেই’। আমরা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না খবরটি। হুমায়ূন ভাই হাউ মাউ করে কাঁদছিলেন।’
সেদিন আর কোনো কাজ করতে পারেননি জানিয়ে শমী বলেন, ‘সারাটাদিন কোনো রিহার্সাল হয়নি। শুধু চুপচাপ কেঁদেছি আমি। বারবার মাকে ফোন করছিলাম। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, সেদিনের স্মৃতি আমি কখনও ভুলব না।’

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস ও ব্যক্তিত্ববোধের কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হয়ে ওঠেন এ নায়ক। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন। যার অধিকাংশই সুপারহিট।
মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্রে পা রাখলেও সালমানের বেশিরভাগ ছবির নায়িকা ছিলেন শাবনূর। এই জুটি তখন এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, তাদের কোনো ছবি মুক্তি পেলেই দর্শক প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।
ইএইচ/




