সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শিক্ষা ক্যাডার প্রশিক্ষণে ঘাটতি মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

শিক্ষা ক্যাডার প্রশিক্ষণে ঘাটতি মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা: শিক্ষামন্ত্রী
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তেমন ব্যবস্থা নেই মন্তব্য করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়েছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেলেও প্রশাসন ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার থেকে পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য যোগদানের আগে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ বা ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি নেই।

তিনি আরও বলেন, অ্যাডমিন ক্যাডারের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের পার্থক্য হচ্ছে, ফল্ট অব দ্য এডুকেশন মিনিস্ট্রি। তারা ওইভাবে ট্রেনিং করায় না।

প্রশিক্ষণের এই ঘাটতির দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই ক্যাডার, একই বিসিএস। অ্যাডমিনে চার-পাঁচ মাস ট্রেনিং দিয়ে তারপর আসছে। আপনাদের কোনো ট্রেনিং ব্যবস্থা নাই। আছে? হু আন্ডারমাইনড দ্যাট?

Milon

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়ার পর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই শিক্ষকতায় যোগ দেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এমন পার্থক্য থাকার পরও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অনেক সময় অন্য ক্যাডারের তুলনায় খাটো করে দেখা হয়। অথচ তারাও একই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে এসেছেন।

শিক্ষকতায় আসার বিষয়ে ড. মিলন বলেন, এই শিক্ষক কিন্তু বিসিএস পরীক্ষা থেকেই আসছেন। কেউ চয়েস দিয়েছিল? আমি জানি, কেউ চয়েসই করতে চায়নি। কখনও মনে করেছে, আমি শিক্ষকতাই করব?

অনুষ্ঠানে সরকারি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ৬৫০ জন শিক্ষককে নিয়ে একটি কার্যক্রম হয়েছে।

এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও প্রায় ৩৮৪ জনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

NAEM

এ সময় উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বেশি গুরুত্ব পেলেও ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু এসএসসি-এইচএসসি নিয়েই এত কথা বলে বেড়াচ্ছি। আমরা ডিগ্রি, মাস্টার্স, অনার্স এসব কথা বলি না, তাই না? কারণ আমরা মনে করি, তারা নিজে পড়ে নিজে শিখবেই, সময় নষ্ট করবে না। কিন্তু সেখানে কোয়ালিটি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা নিজেরা পড়াশোনা করলেই যথেষ্ট নয়, সেখানে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর