বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ

প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ এবং নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়।

নোটিশে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় শিশুদের স্বার্থ সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করার নীতি রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি করানো হচ্ছে। এর ফলে অল্প বয়সেই শিশুদের অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ নিতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শৈশব, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রেখে অননুমোদিত কোর্সগুলো বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক স্তরে লিখিত পরীক্ষা, স্ক্রিনিং টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও নোটিশে আপত্তি তোলা হয়েছে। আইনজীবীর মতে, অল্প বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে শিশুদের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রাথমিক স্তরে সব ধরনের ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এনসিটিবির নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, ওয়ার্কবুক ও সহায়ক বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার যোগসাজশে শিশুদের ওপর বাড়তি বই ও পাঠ্যসূচির বোঝা চাপানো হচ্ছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, শিশুদের শৈশব থেকেই মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে মুক্তচিন্তা, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। তাদের ওপর অতিরিক্ত শিক্ষার চাপ সংবিধানের ১৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত শিক্ষার সুযোগ, সমতা, আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিসত্তার সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স বন্ধ করা, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা এবং এনসিটিবির নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

এ ছাড়া এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এম/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর