নিজস্ব গবেষণা মাঠ (পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ) ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। টানা তিন দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, মাঠে গণজমায়েত ও মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুরের পর আজ আগারগাঁও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে বিজয় সরণি সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, গবেষণার জন্য নির্ধারিত জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর না করায় ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাস ও জমি উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। এ জন্য সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে তা মেনে নিতে প্রস্তুত।’
আন্দোলনের তৃতীয় দিনে আগারগাঁও থেকে ফার্মগেট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে গণজমায়েত করেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা কমিটিকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ওই জমিতে সচিবালয়ের ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ চলছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি জব্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। একই সঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের টাঙানো একটি সাইনবোর্ডও খুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।
পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে আবারও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ না করায় তারা সেখানে পুনরায় যান। পরে মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব গবেষণা মাঠটি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে শেকৃবি পরিবার। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ওই কর্মসূচি থেকে গবেষণা মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়।
একই দিন মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার/প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার সড়ক অবরোধে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
এম/এসআই




