শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশের ৮ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশের ৮ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা
বাংলাদেশের ৮টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং যৌথভাবে একটি কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর আওতায় দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং চীনের শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করে যৌথ শিক্ষা কর্মসূচিও চালু করা হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের পক্ষে দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এতে স্বাক্ষর করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সমঝোতার আওতায় চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিক করা হবে। পাশাপাশি দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ‘২+২’ ও ‘৩+১’ মডেলের কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা ও স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ও সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Agreement_with_China_to_modernize_8_technical_educational_institutions_in_Bangladesh_1দীর্ঘমেয়াদি এ সহযোগিতা বাস্তবায়নে চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসিসহ বিভিন্ন প্রদেশের কারিগরি ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং বাস্তবধর্মী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।"

তিনি বলেন, এ সমঝোতা স্মারক এবং কারিগরি শিক্ষার নতুন বৈশ্বিক কাঠামো বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

এদিকে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস (বেইজিং এগ্রিমেন্ট)’ নামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ এ কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সমর্থনকারী দেশগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে সমাপনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন।

Agreement_with_China_to_modernize_8_technical_educational_institutions_in_Bangladesh_2শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং এগ্রিমেন্টের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানদণ্ড গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি ‘চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র’ এবং ‘লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড’ প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে আরও কয়েকটি উদ্যোগও তুলে ধরা হয়।

চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বাংলাদেশ ও চীন আশা প্রকাশ করেছে, নতুন এ সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে।

এমএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর