সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

সুইসাইড নোট রেখে নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটি গঠন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাবি
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম

শেয়ার করুন:

সুইসাইড নোট রেখে নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটি গঠন
মো. মোহাইমিনুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন। তার আবাসিক কক্ষ থেকে হাতে লেখা একাধিক চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চিঠিতে বিভাগের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন সহপাঠীরা। পরে তার কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জরুরি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠতে দেখা যায় মোহাইমিনুল ইসলামকে। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোহাইমিনুল ইসলাম মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার স্থায়ী বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকায়।

ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠী মিম বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানতে পারি, মুহাইমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তার কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি পাই। তারপর থেকে আমরা সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

মুহাইমিনের একাডেমিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চতুর্থ বর্ষের একটি কোর্সে তার ফেল এসেছিল। এ কারণে চলতি বছর ওই কোর্সের রিটেক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে মাস্টার্সের ক্লাসও করছিলেন। কয়েক দিন আগে তাকে জানানো হয়, চতুর্থ বর্ষের বিষয়ের পরীক্ষা আবার দিতে হবে। বিষয়টি তাকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।

সহপাঠীদের ভাষ্য, কক্ষে পাওয়া চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন, শিক্ষক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশার কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব চিঠিতে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে বিভাগের শিক্ষকদের দায়ী করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হূসাইন মো. সায়েম বলেন, আমি তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। আমরা তার সন্ধানের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধারের চেষ্টা করতেছি।

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান। কমিটির প্রধান করা হয়েছে গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হূসাইন মো. সায়েম ও সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. আল আমিন খান। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রক্টর অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল রানা। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই সাভার থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশকে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিঠিতে বিভাগের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাকে খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মোহাইমিনুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম (০১৭১৪০১২৩১৫) অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরীর (০১৭১২৬৭৪৫৫৭) সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর