জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভক্তি তৈরি হলে পুরোনো রাজনৈতিক অপশক্তিগুলো আবার সুযোগ নিতে পারে— এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরে খ্যাতিমান কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে আজকের তরুণদের ওপর। জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরিবর্তনের পক্ষে থাকা তরুণদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আশুলিয়ায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে ফল সেমিস্টার ২০২৬-এ ভর্তি হওয়া নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, বেদনাদায়ক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে আজকের তরুণদের ওপর। যারা জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরিবর্তনের পক্ষে ছিল, তাদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে। বিভক্তি তৈরি হলে পুরোনো রাজনৈতিক অপশক্তিগুলো আবারো সুযোগ নিতে পারে।
ওরিয়েন্টেশনকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু স্বাগত জানানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং নতুন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে নিজেকে জানা, প্রশ্ন করা, নতুন কিছু শেখা এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার জায়গা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল বা সার্টিফিকেট অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। চিন্তার শক্তি, মানবিকতা, সাহস, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধকে বিকশিত করতে হবে। লক্ষ্য স্থির করে স্বপ্ন দেখতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। শুধু ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখলে হবে না; জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভর ও আত্মসমালোচনামূলক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নিজের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে বুঝে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
নজরুলের সাহিত্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচনায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, শোষণবিরোধী চেতনা ও মানবিক মর্যাদার কথা উঠে এসেছে। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য থেকে মানবিকতা, সাম্য ও সাহসের শিক্ষা নিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। ভবিষ্যতেও তাদের জন্য দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নবাগত শিক্ষার্থীদের সফলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি বলেন, জীবনে নানা আকর্ষণ ও প্রতিবন্ধকতা আসবে। তবে লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় থাকতে হবে। সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক ও প্রফেসর ড. এম. উমার আলী।
স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন এবং ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ২০২৬-এর আহ্বায়ক মো. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের ডিন ড. আবু আইয়ুব মো. ইব্রাহিম, রেজিস্ট্রার এ. এইচ. আবু সাঈদ, ইংরেজি বিভাগের প্রধান তাসমিয়া মোসলেহউদ্দীন, প্রোক্টর মোহাম্মদ নাজমুল হক শিকদার শিবলু, ভর্তি বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের এবং ছাত্র বিষয়ক বিভাগের পরিচালক আবদুল মতিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এফএ




