জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হল ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভিন্ন অবস্থান দেখা দিয়েছে। জেনারেটর, লিফট, বিদ্যুৎ ও ডাইনিংয়ের খাবারের মানসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়া হয়। পরে আলোচনা শেষে তালা খোলা হলেও আবারও কক্ষটি তালাবদ্ধ করা হয়।
হল সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর জেনারেটরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হলের লিফট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়া হয়। হল ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ পাপনের নেতৃত্বে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তালা দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পাপন এতে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তালা দিয়েছেন।
২১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী ও সহকারী প্রক্টর আবদুছ ছাত্তার জয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হলে যান। এ সময় ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রভোস্টের কক্ষের তালা খুলে আলোচনায় বসার আহ্বানে পাপন রাজি না হওয়ায় পরে শিক্ষার্থীদের সম্মতিতে এক কর্মচারীর মাধ্যমে তালা খোলা হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টার আলোচনায় লিফট, জেনারেটর, ডাইনিং ও গেটসহ ১৩টি সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে পাপন ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী আলোচনায় অংশ নেননি। আলোচনা শেষে তারা আবারও প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেন।
এ বিষয়ে ফিরোজ আহমেদ পাপন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হলের নানা সমস্যা নিয়ে প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রভোস্ট কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, প্রভোস্ট ও প্রক্টরের সঙ্গে অফিসের বাইরে বসে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী তালা খুলে কক্ষে সভা করায় তারা সভা বয়কট করে বেরিয়ে আসেন। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই পুনরায় তালা দেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বলেন, ‘প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার সঙ্গে ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হল কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপে না বসে এককভাবে তালা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।’
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী বলেন, ‘লিফট, জেনারেটর, ডাইনিং, গেটসহ ১৩টি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। উপস্থিত অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সম্মতিতে তালা খোলা হয়েছিল। পরে হল ছাত্রদলের সভাপতি আবারও অফিসটি তালাবদ্ধ করেন।’
প্রতিবেদক/এএম




