দেয়ালে নিজের নাম লেখাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রকিকে প্রকাশ্যে মারধর এবং র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেশনের নামে ডেকে নিয়ে বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এর আগে ২০তম ব্যাচের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় তাকে কান ধরে দাঁড় করানো, এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করাসহ দীর্ঘদিন র্যাগিংয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম রকি জানান, গত বৃহস্পতিবার সেশনের কথা বলে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগে ডেকে নেয়। সেশনের একপর্যায়ে ২১তম ব্যাচের সব নারী শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী তাকে বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে সবার সামনে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী রকি বলেন, আমাকে ডিপার্টমেন্টের মধ্যে আটকে রেখে সবার সামনে মারধর করা হয়েছে। ওই সময় আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এখনো বিষয়টি মনে পড়লে আতঙ্ক লাগে।
এর আগে বিভাগের দেয়ালে নিজের নাম লেখার বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে ডেকে নেওয়া হয় বলে জানান রকি।
তার অভিযোগ, সেখানে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তাকে কান ধরে বেঞ্চের ওপর এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, এক হাত উঁচু করে অন্য হাত দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো এবং বিভিন্ন ধরনের হাসি দিতে বাধ্য করাসহ নানা ধরনের আচরণের মাধ্যমে তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
এ ছাড়া র্যাগিংয়ের অংশ হিসেবে ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বাধ্য করে তাকে বিভাগের নোটিশ গ্রুপসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নোটিশ গ্রুপ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নোটিশ থেকে তিনি বঞ্চিত হন বলে জানান।
বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী। রকি বলেন, আমি বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। সবসময় ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। ডিপার্টমেন্টে যেতেও এখন ভয় লাগে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার এবং কোর্স কো-অর্ডিনেটর স্যারকে জানিয়েছি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২১তম ব্যাচের মেয়েদের বের করে দেওয়ার পর সেশনের মধ্যে রকিকে চড় মারেন রিয়াজ। এ সময় রিয়াজের সহপাঠীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি রকিকে আরও আঘাত করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন। এরপর ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২১তম ব্যাচের সবার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে রকি ছাড়া অন্য সবাইকে রুম থেকে চলে যেতে বলা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের ২০ ব্যাচ ও ২১ ব্যাচের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আসলে ঘটনাটি হঠাৎ উত্তেজনার মুহূর্তে ঘটে গেছে। আমিই হাত তুলে ফেলেছি। আমি বুঝতে পারছি, এটা আমার ভুল হয়েছে। এমনটা আমার করা উচিত হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ.এফ.এম. আরিফুর রহমান বলেন, আমার কাছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানানোর কথা বলেছি এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।
প্রতিনিধি/এআরএম




