রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও নৈশপ্রহরীদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও নৈশপ্রহরীদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণের দাবি
জাতীয় শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা সভায় অতিথিবৃন্দ

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ এবং নৈশপ্রহরীদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও ছুটির নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ: প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম অনতিবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেশের শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। শিক্ষার মান বাড়াতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা জরুরি। সরকার শিক্ষকদের মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে তারাই দেশের শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, অবসর নেওয়া শিক্ষকদের পেনশনের অর্থ নিয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি করা যাবে না। তাদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত বুঝিয়ে দিতে হবে।

সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ছবি টাঙানো, মূর্তি বানানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলায় অর্থ ব্যয় করাই সরকারের কাজ নয়। ইসলামিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি শিক্ষকদের সম্মান দেয়, তাহলে শিক্ষকরাও রাষ্ট্রকে সম্মানিত করবেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি এবং সরকারের সদিচ্ছার অভাবই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা বলেন, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে থাকা এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর দাবিটি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবিএম জাকারিয়া। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক আব্দুস সবুর।

এতে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আখম ইউনুস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাছির উদ্দীন খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

এমএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর