দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুল শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। সব মিলিয়ে এক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা। আঁচল ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সার্ভেইল্যান্সে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যায় মারা গেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩১০। অর্থাৎ এক বছরে আত্মহত্যায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে ৯৩টি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রধান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইয়েদুল ইসলাম সায়েদ এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সেমিনারে জানানো হয়, ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ওই বছর ১৯০ জন স্কুলশিক্ষার্থী আত্মহত্যায় মারা গেছেন। এ ছাড়া ৯২ জন কলেজ, ৭৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪৪ জন মাদরাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যায় মারা গেছেন।
আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আত্মহত্যায় মারা যাওয়া ৪০৩ শিক্ষার্থীর প্রায় ৪৭ শতাংশই স্কুল পর্যায়ের। কলেজ পর্যায়ে ছিলেন প্রায় ২৩ শতাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং মাদরাসায় প্রায় ১১ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে একক কোনো কারণ কাজ করে না। মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, পারিবারিক বিরোধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা ভালো ফল করার চাপ, বুলিং, একাকিত্ব, আর্থিক সংকট, বেকারত্বের আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের চাপসহ একাধিক বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
ডা. সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, আত্মহত্যা শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়। এর আগে আত্মহত্যার চিন্তা, বিষণ্নতা, একাকিত্ব, বুলিং, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থাকতে পারে। তাই আত্মহত্যা প্রতিরোধের কাজ মৃত্যুর ঠিক আগে নয়, অনেক আগে থেকেই শুরু করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন শুধু সচেতনতা কর্মসূচি নয়, প্রয়োজন তথ্য, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষিত জনবল, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, অর্থায়ন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন তরুণ বলতে পারেন, ‘আমি ভালো নেই’ এবং তার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ ও সেবা পাওয়া যায়।
আঁচল ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং এবং সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের কথা বলা জরুরি। জীবনের নানা সমস্যা ও সংকট একা মোকাবিলা না করে কথা বলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তিনি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিকাউন্সেলিং চালুর উদ্যোগের কথাও জানান।
এএইচ/এআরএম




