সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অভিন্ন নীতিমালা করবে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে অভিন্ন নীতিমালা করবে ইউজিসি
১৮টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে অংশীজন সংলাপের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন

শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে দেশের ১৮টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মনোনীত প্রতিনিধিদের নিয়ে অংশীজন সংলাপ করেছে কমিশন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি ভবনে আয়োজিত সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে নীতিমালা অনুসরণ করা হলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। এই বাস্তবতায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে ইউজিসি প্রণীত ফ্রেমওয়ার্ক সরাসরি অনুসরণ করতে পারবে। আবার নিজেদের প্রয়োজন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ফ্রেমওয়ার্কের ভিত্তিতে পৃথক নীতিমালাও প্রণয়ন করতে পারবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা বজায় থাকবে।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, নীতিমালা প্রণয়নের আগে ইউজিসির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মশালা ও সেমিনার থেকে পাওয়া মতামত ও সুপারিশের পাশাপাশি অংশীজন সংলাপে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের পর নীতিমালাটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় উপস্থাপন করে চূড়ান্ত করা হবে। পরে বাস্তবায়নের জন্য তা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় নৈতিকতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চৌর্যবৃত্তি গবেষণার মৌলিকত্ব ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও ঝুঁকিতে ফেলে।

তিনি জানান, গবেষণায় নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন কারণে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নাল থেকে বাংলাদেশি গবেষকদের সম্পৃক্ততা থাকা অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তার মতে, এমন পরিস্থিতি গবেষণায় নৈতিকতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। একটি অভিন্ন কাঠামো থাকলে গবেষণার নৈতিকতা, মৌলিকত্ব ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সহজ হবে।

একই সঙ্গে এই নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার গুণগত পরিবেশ উন্নয়ন এবং গবেষণামুখী জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অংশীজন সংলাপে প্রস্তাবিত নীতিমালার পটভূমি ও উদ্দেশ্য, চৌর্যবৃত্তির ধরন ও সংজ্ঞা, চৌর্যবৃত্তি শনাক্তকরণ, অভিযোগ উত্থাপন ও তদন্ত, দায় নির্ধারণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি, শাস্তির বিধান এবং আপিলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় গবেষণা ও একাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন অংশীজনেরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।

এ ছাড়া ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান, এসপিকিউএ বিভাগের পরিচালক দুর্গা রানী সরকার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোছা. জেসমিন পারভীনসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে খসড়া চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধ নীতিমালার বিভিন্ন দিক ও প্রস্তাবিত কাঠামো তুলে ধরেন ইউজিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ ও সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাক আহমেদ।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর