শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান’

কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেছেন, সরকারের স্টার্টআপ ও সৃজনশীল খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে কাজে লাগানো গেলে কৃষির আধুনিকায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং শিল্প-একাডেমিয়া পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মামুন বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রচলিত কৃষিপদ্ধতির পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হতে পারে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ড্রোন ও রিমোট সেন্সিংয়ের মতো প্রযুক্তি কৃষির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময়োপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

ইউজিসির এই সদস্য বলেন, কৃষিকে শুধু প্রচলিত চাষাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এগ্রো-টেকনোলজির মাধ্যমে কৃষির পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলতে পারলেই কৃষির উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

তরুণদের কৃষির সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

KAU

অধ্যাপক মামুন বলেন, কৃষিভিত্তিক পণ্য রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় এই খাতের প্রবৃদ্ধি এখনো আশানুরূপ নয়। প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো গেলে উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের রফতানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকার স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থায়নের একটি অংশ কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে ব্যবহার করা গেলে তরুণদের কৃষিতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করিম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহমেদ কামাল বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এসিআই মোটরস, আমান ফিড, বায়ার ক্রপ সায়েন্স, লাল তীরসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর