মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এসএসসির ফলে ধস: বিপর্যয়, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংকট?

মাহফুজ উল্লাহ হিমু
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

শেয়ার করুন:

এসএসসির ফলে ধস: বিপর্যয়, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংকট?
গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার সর্বনিম্ন। ছবি: ঢাকা মেইল।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে। পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া এক বছরের ব্যবধানে শুধু পাসের হারই কমেনি, কমেছে উত্তীর্ণ ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে শিক্ষাবিদদের মতে, শুধুমাত্র পাসের হার বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে শিক্ষার প্রকৃত মান বিচার করা যায় না। শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, কতটা বুঝে শিখছে এবং সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারছে কি না-এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘দেশের শিক্ষাব্যবস্থাই যদি সঠিক পথে না থাকে, তাহলে একটি পরীক্ষার ফল দেখে ভালো- খারাপ বা শিক্ষার মান বিচার করার সুযোগ নেই।’

১৯ বছরের মধ্যে এসএসসিতে পাসের হার সর্বনিম্ন

সোমবার প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪৯ জন এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

২০০৮ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০১১ সালে তা ৮০ শতাংশের ঘরে ওঠে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাসের হার ছিল ৮৬ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে। ২০১৭ সালে ৮০ দশমিক ২৫ ও ২০১৮ সালে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ হলেও ২০১৯ ও ২০২০ সালে তা আবার ৮২ শতাংশের বেশি ছিল।

করোনাকালে ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও কম বিষয়ে পরীক্ষার কারণে পাসের হার বেড়ে ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশে ওঠে। পরের তিন বছরও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা হয়; ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ৪৪, ৮০ দশমিক ৩৯ ও ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

ssc_result_2
ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন মতিঝিল আইডিয়ালের শিক্ষার্থীরা। ছবি: ঢাকা মেইল।

পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা শুরুর পর ২০২৫ সালে পাসের হার নেমে আসে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘ফলাফলের এই ওঠানামার পেছনে শিক্ষার্থীর সক্ষমতার পাশাপাশি প্রশ্নের ধরন ও মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনও বিবেচনায় নিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সময়ের সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্নের ধরন, খাতা মূল্যায়ন এমনকি পাসের হারও নির্ভর করছে। কখনো প্রশ্ন সহজ করা বা মূল্যায়নে শিথিলতা এসেছে, আবার কখনো কঠোরভাবে খাতা দেখা হয়েছে। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে।’

ধারাবাহিকতার অভাবে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। তার মতে, পাঁচ বছর আগে যে মানদণ্ডে একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল নিয়ে পাস করেছে, একই মানের একজন শিক্ষার্থী এবার হয়তো সেই ফল নাও পেতে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে তাকে এর প্রভাব বহন করতে হতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ফলের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও বিবেচনা করা জরুরি।

জিপিএ-৫ কমলেও প্রশ্ন শুধু ফলের নয়

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন বা প্রায় ১৬ শতাংশ। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন; পাঁচ বছরের ব্যবধানে এবার সেই সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে।

তবে জিপিএ-৫-এর এই পতনকে একা শিক্ষার মানের অবনতির সূচক হিসেবে দেখতে চান না মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। তার প্রতিষ্ঠানেও এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। গত বছর ১ হাজার ৫৪৯ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ১ হাজার ৪৯০ জন।

সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৯ জন কমলেও মতিঝিল আইডিয়ালের অধ্যক্ষে মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে কী শিখছে এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কতটা এগোতে পারছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মূল্যায়নের উদ্দেশ্যও শুধু একজন শিক্ষার্থী কত নম্বর পেল বা পাস করল কি না, তা নির্ধারণ করা নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী কী শিখেছে, কোন বিষয়ে তার দক্ষতা কতটা, কোথায় তার আগ্রহ বা দুর্বলতা-এসবও মূল্যায়নের মাধ্যমে জানা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে জিপিএ-৫ কিংবা পরীক্ষার ফলই শিক্ষার্থীর মান নির্ধারণের প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারে জিপিএ-৫ গর্বের বিষয়, আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও ফলাফলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিন ঘণ্টার পরীক্ষায় ১০ বছরের মূল্যায়ন

বর্তমান মূল্যায়ন ব্যবস্থার আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, একটি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবন কতটা নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব। একজন শিক্ষার্থী ১০ বছর একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও তার শেখার ধারাবাহিকতা, কোন বিষয়ে সে ভালো বা দুর্বল কিংবা কোথায় তার আগ্রহ-এসব তথ্য চূড়ান্ত মূল্যায়নে খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার একটি পরীক্ষাই হয়ে ওঠে বড় মাপকাঠি।

অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার দিন একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকতে পারে, মানসিকভাবে খারাপ থাকতে পারে কিংবা পারিবারিক সমস্যার মধ্যে থাকতে পারে। ফলে ওই দিনের পরীক্ষা খারাপ হতে পারে। তাই তিন ঘণ্টার একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ বছরের শিক্ষাজীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব নয়।’

RESHIDENSIAL-SCHOLL
ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ছবি: ঢাকা মেইল

একই ধরনের মত জানান অধ্যাপক লাল মোহাম্মদও। তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীকে সবচেয়ে ভালো চেনে তার স্কুল ও শিক্ষকরা। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকরা তার সক্ষমতা, দুর্বলতা ও শেখার অগ্রগতি দেখেন। তাই চূড়ান্ত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক শেখার অগ্রগতির মূল্যায়ন থাকা প্রয়োজন।’

এ কারণে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে ভালো, কোথায় দুর্বল এবং কোন বিষয়ে তার আগ্রহ-এসব স্কুলের শিক্ষকরা দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকেই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই চূড়ান্ত ফলাফলের একটি অংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে আসা উচিত।”

বোর্ড ভেদে ফলের বড় পার্থক্য

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মাত্র তিনটিতে পাসের হার বেড়েছে। এগুলো হলো: ঢাকা, বরিশাল ও কুমিল্লা। বাকি আটটি বোর্ডেই পাসের হার কমেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পতন হয়েছে ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৩ দশমিক ৯৭, চট্টগ্রামে ১২ দশমিক ৫৯ এবং মাদরাসায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম মাদরাসা বোর্ডে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অথচ বিগত বছরগুলোর ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মাদরাসা বোর্ড বরাবর সর্বোচ্চ ফলধারী বোর্ডগুলোর একটি ছিল।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফলেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ হলেও মানবিকে তা ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের মধ্যে পাসের হারের ব্যবধান ৩১ দশমিক ৯০ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ, মেয়েদের ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ছেলেদের ৭৭ দশমিক ৩৯ ও মেয়েদের পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এই ফলাফলের পেছনে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার অভিজ্ঞতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘এবারের পরীক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এর আগে জেএসসি বা পিএসসির মতো কোনো বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এসএসসিই ছিল তাদের প্রথম বড় বোর্ড পরীক্ষা। বোর্ড পরীক্ষার পরিবেশ, প্রশ্নপদ্ধতি, সময় ব্যবস্থাপনা ও পরীক্ষার চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতার ঘাটতি ফলাফলে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।’

প্রশ্নপদ্ধতিতে পরিবর্তন, গুরুত্ব বুঝে শেখা

এবারের প্রশ্নের ধরনেও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে বলে জানান অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য যদি শুধু পাসের হার বাড়ানো না হয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়, তাহলে প্রশ্নপদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে। শিক্ষার্থী শুধু মুখস্থ করেছে কি না, সেটি দেখার পাশাপাশি সে বিষয়টি কতটা বুঝেছে এবং বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এই পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরও ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে হবে।’

মতিঝিল আইডিয়ালের এবারের ফলাফল তার কথার একটি বাস্তব উদাহরণ। প্রতিষ্ঠানটির ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৭২৩ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ০২ শতাংশ। তবে শতভাগ পাসের প্রত্যাশা ছিল বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ।

education-3তিনি বলেন, ‘এই ফলের পেছনে শুধু পরীক্ষার কয়েক মাসের প্রস্তুতি নয়, সারা বছর নিয়মিত শ্রেণিকাজ, শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারছে কি না তা দেখা, দুর্বলতা চিহ্নিত করা, পরীক্ষা নেওয়া এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর প্রয়োজন অনুযায়ী আবার বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার ভূমিকা রয়েছে।’

অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের মতে, একজন শিক্ষক শুধু ক্লাসে গিয়ে বিষয় পড়িয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শিক্ষার্থী বিষয়টি বুঝেছে কি না এবং কোথায় তার দুর্বলতা রয়েছে, সেটিও শিক্ষককে দেখতে হয়। নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস, বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাসায় সহায়ক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীর নিজের দায়িত্বশীলতাও ভালো ফল ও শেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা দর্শন থেকে মূল্যায়ন, সমস্যা ধারাবাহিকতায়

শিক্ষাব্যবস্থার এই সমস্যাগুলোকে শুধু পরীক্ষার ফল বা প্রশ্নপদ্ধতির পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশে একটি সুস্পষ্ট শিক্ষা দর্শন নেই। সেই দর্শনের ভিত্তিতে শিক্ষা নীতি, নীতির ভিত্তিতে কারিকুলাম, কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক এবং সবশেষে সেই অনুযায়ী মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এর উল্টোটা হচ্ছে।

‘ফলে একেক সময় একেক ধরনের সিদ্ধান্ত আসছে। শিক্ষা বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের মতো করে কারিকুলাম বা মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারছে না। সরকারের নির্দেশনার ওপর অনেক সিদ্ধান্ত নির্ভর করায় শিক্ষাব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে।’

এ কারণে এবারের ফলাফলকে শুধু ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীর ১০ বছরের শেখার অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা; সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষার উন্নতি বা অবনতি বিচার করতে হবে।’

অন্যদিকে অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের মতে, পাসের হার বাড়ানো শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও সে যদি বিষয়টি বুঝতে না পারে বা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষার মূল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাই শিক্ষার্থীদের শেখার মান, বিষয় বোঝার সক্ষমতা এবং জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

এমএইচ/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর