শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বাসে দম্পতির পাশাপাশি বসা নিয়ে বিরোধ, হামলার ঘটনায় ঢাবি ছাত্রী থানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

বাসে দম্পতির পাশাপাশি বসা নিয়ে বিরোধ, হামলার ঘটনায় ঢাবি ছাত্রী থানায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘আনন্দ’ বাসে এক দম্পতির পাশাপাশি বসাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার স্বামীসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা মামলার পর পুলিশ ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেয়। তার স্বামীকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েকে পাশাপাশি বসতে দেখে তাদের আলাদা বসতে বলা হয়। তখন ওই ছাত্রী জানান, পাশে বসা ব্যক্তি তার স্বামী। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসটি ওই ছাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের মারধর করে এবং বাসে ভাঙচুর চালায়। হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন, কয়েকজন ছাত্রীও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আনন্দ বাস কার্যকরী কমিটি ২০২৫-২৬-এর সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারেক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদের আলাদা বসতে বলা হয়েছিল। পরে পরিচয় যাচাই করতে চাইলে ওই ছাত্রী সহযোগিতা না করে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বাস থেকে নামার পর স্থানীয় লোকজন এনে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত ছাত্রীর বক্তব্য ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত আনন্দ বাসে যাতায়াত করেন। রাতে বাড়ি ফেরার সময় তার স্বামী সঙ্গে থাকায় তারা পাশাপাশি বসেছিলেন। পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে বারবার শিক্ষার্থী পরিচয়ের প্রমাণ দিতে বলা হয়। পরিচয়পত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল, রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেখালেও তাকে বিশ্বাস করা হয়নি এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার বাবা এলাকার পরিচিত হওয়ায় কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এলেও তিনি কাউকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করাননি।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বাসে বসা নিয়ে বিরোধের পর ওই ছাত্রীর স্বামী স্থানীয় কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরে তারা বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল বলেন, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যও যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারাও ফতুল্লা থানায় যান। ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ জানান, বাসে হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে।

এমএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর