বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

প্রক্টরের অপসারণসহ ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে জকসুর স্মারকলিপি

জবি, প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রক্টরের অপসারণসহ ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে জকসুর স্মারকলিপি
উপাচার্য কাছে স্মারকলিপি প্রদান করছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা। ছবি- সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলার বিচার, প্রক্টরের অপসারণ ও শাস্তি, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবিতে উপাচার্য বরাবর ৯ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলামের সই করা স্মারকলিপিতে জকসু অভিযোগ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করলে প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেন। পরে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে দাবির প্রতি সংহতি জানান।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যদি আন্দোলন প্রত্যাহার না করো, তাহলে সিন ক্রিয়েট করে তোমাদের এখান থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে।’ এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থানরত শিক্ষার্থী, জকসুর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, হামলায় জুলাই আন্দোলনের গুলিবিদ্ধ দুই জুলাইযোদ্ধা, ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী এবং অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুককে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্মারকলিপিতে জকসুর ৯ দফা দাবি পেশ করেন। দাবি গুলো হলো- প্রক্টরের পদত্যাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালে আহতদের খোঁজ না নেওয়ার দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ এবং অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা।

স্মারকলিপির শেষাংশে জকসু জানায়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। অন্যথায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

প্রতিনিধি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর