জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু)। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তিন দফা দাবিও তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কাছে অ্যাম্বুলেন্সটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শাবীনা শারমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন এবং পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. তারিক বিন আতিক। জকসুর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, এজিএস মাসুদ রানা, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেদী হাসান, আকিব হাসান ও ফারুক হোসেন।
জকসু শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দাবি আদায়ের যে আন্দোলন হয়েছিল সেখানে যে হামলা হয়েছিল, ন্যাক্কারজনক হামলা তার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং আগের দিনে যে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক ঘটনা হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য স্যারের কাছে স্মারকলিপি এবং সকল দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছি।
অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এত দিন মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স ছিল, যা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। জকসু নির্বাচনের আগেই আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ আমরা এই অ্যাম্বুলেন্সটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের জায়গা থেকে আমরা দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আশা করি, নতুন এই অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আরও দ্রুত ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে।’
তিনি জকসুর পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা দিয়ে ১,৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য চলতি বছর অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে একজন ডাক্তার ও একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ।
এমআর




