জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতির সাম্প্রতিক একটি বিবৃতিকে ‘কলঙ্কিত বিবৃতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষক সমিতির ওই বিবৃতির সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক বিলাল হোসাইন লেখেন, ‘এটা একটা কলঙ্কিত বিবৃতি হয়ে থাকবে।’
তিনি আরও লিখেন, ‘শিক্ষক সমিতি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পারপাস সার্ভ করার জন্য গঠিত হয়নি। যে বিবৃতিতে ন্যূনতম ন্যায়বোধের প্রতিফলন নেই, সেটি দুঃখজনক।’
পোস্টের শেষে নিজের পরিচয় উল্লেখ করে অধ্যাপক বিলাল হোসাইন লিখেন, ‘দুঃখিত, এই শিক্ষক সমিতির আমি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।’
এরআগে শিক্ষক সমিতির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক ও কয়েকজন শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সংক্রান্ত প্ল্যাকার্ড নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল টিম তাদের নিবৃত করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘শিক্ষক সমিতির সভাপতিও শিক্ষার্থীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। তবে তারা তা উপেক্ষা করে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে জবি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে জকসুর নেতাদের এবং পরে শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা পরে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।’
শিক্ষক সমিতির ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্য শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডি ও অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দৃশ্যত প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
উল্লেখ্য,জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক আলোকচিত্রী প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন( ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যপক ড. মামুন হোসেন। ওই অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যানে সামনে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প বদলে স্থায়ী ১০ তলা ভবন বিশিষ্ট স্থায়ী আবাসিক হলের টেন্ডারের প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীর সেখানে প্লকার্ড হাতে প্রতিবাদে অবস্থান নেন। এই প্রতিবাদ ঘিরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে জরায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আহত হয় একাধিক সাংবাদিক সাংবাদিক।
এএম/




