সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে যোগদান ও পদায়নের সময়সূচি এক মাসের বেশি এগিয়ে আনার ঘোষণা এবং এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির আশ্বাস পাওয়ার পর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। বেলা পৌনে ১২টার দিকে কোরআন তিলাওয়াত, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং চাকরিপ্রাপ্ত সহকর্মীদের মধ্যে যারা মারা গেছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
আন্দোলনকে ঘিরে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ও একটি জলকামান মোতায়েন করা হয়। এসময় শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের অনেকেই মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে দ্রুত যোগদান ও পদায়নের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
তাদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও এখনো যোগদান করতে পারেননি। নিয়োগের সব ধাপ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
আন্দোলন চলাকালেই রোববার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগে নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। পরদিন ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, প্রজ্ঞাপন জারি ও তা ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন।
এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত কারণে নিয়োগ কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছে। সে সময় তিনি ২৯ অক্টোবর যোগদানের কথা বললেও পরদিন নতুন সিদ্ধান্তে সময়সূচি এক মাসের বেশি এগিয়ে আনা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ করা হলেও এতদিন তারা যোগদান করতে পারেননি।
এম/এএইচ



