সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই ফাঁস হওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল গত ৮ জুলাই চূড়ান্ত করা হয়। ফলাফল ওয়েব পোর্টালে প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় অধিদফতরে সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে। তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আগে ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার ফলাফল সংশ্লিষ্ট লিংকে আপলোড করা হয়। অল্প সময়ের জন্য লিংকগুলো সচল থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেখান থেকে ফলাফল ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধিদফতরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক মো. মিরাজুল ইসলাম উকিলকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপবৃত্তি বিভাগের শিক্ষা অফিসার মো. জিয়াউল কবির সুমন এবং প্রশাসন-২ শাখার সহকারী পরিচালক মোছাম্মদ রোখসানা হায়দার।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি ও ফলাফল আপলোডের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহতাব কায়েসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফলাফল ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষক ও অভিভাবক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রাপ্তির তথ্য প্রকাশ করেন। দুপুরের পর নিজাম উদ্দিন জুয়েল নামে এক শিক্ষক ফেসবুকে লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। শিক্ষকতা পেশায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বড়কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো পাঁচজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।’
একইভাবে কামরুন নাহার কেয়া নামে এক অভিভাবক ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভাগনে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।’
এম/এআরএম




