প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ দেশের বিদ্যমান শিক্ষা সংকটকে আরও তীব্র করবে।
শুক্রবার (১২ জুন) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তরই বর্তমানে নানা সংকটে জর্জরিত। এ অবস্থায় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পরিবর্তে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা উল্লেখ করেন, ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বা জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো শিক্ষাখাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করে। এছাড়া ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও নেপালের মতো দেশও বাংলাদেশের তুলনায় শিক্ষায় অধিক বিনিয়োগ করে থাকে। সে তুলনায় বাংলাদেশে শিক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কম বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত হিসেবে রয়ে গেছে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, এবারের বাজেটে শিক্ষাকে মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা শিক্ষাখাতের প্রকৃত বরাদ্দকে কৃত্রিমভাবে বড় দেখানোর প্রচেষ্টা। তাদের আশঙ্কা, এ খাতের অর্থের একটি অংশ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট নয় এমন প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতেও শিক্ষা খাতকে প্রযুক্তি বা অন্যান্য খাতের সঙ্গে সংযুক্ত করে বরাদ্দ স্থানান্তরের নজির রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচনের নীতি আরও জোরদার হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর সরকারের গুরুত্বারোপের বিষয়টিও সমালোচনা করে ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা বলেন, বেকারত্ব সমস্যার মূল কারণ শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব। কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত বিপুলসংখ্যক তরুণও দেশে প্রয়োজনীয় চাকরি ও ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না।
তারা বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ না করায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দিন দিন বাড়ছে। রাষ্ট্রের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি। তাদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ০১ শতাংশ বরাদ্দের কারণে জনগণকে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ নিজস্ব অর্থে বহন করতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ টেনে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা কার্যকর রূপরেখা তুলে ধরা হয়নি।
এম/এমআই




