আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ২০২৮ সাল থেকে নতুন পাঠ্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সরকারের তিন মাসের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস নামে বই যুক্ত হচ্ছে।
নতুন পাঠ্যক্রম না কি পরিমার্জন হবে এবং তা প্রণয়নের জন্য কমিটি হয়েছে কি না- এ বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের যে ১৬ বছর ছিল, তখন বাংলাদেশের তো রাষ্ট্র কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়েছিল। শিক্ষার ছিল অন্যতম ভয়াবহ অবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের নতুন প্রজন্মের, তরুণ প্রজন্মের মেধার বিকাশের জন্য যে কাজটুকু করা উচিত ছিল, তা মোটেই করা হয়নি। এখন ১৬ বছরের সব সমস্যা হয়তো একদিনে বা একবছরে সমাধান করা যাবে না, এটা বাস্তব। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে, যতটা দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো করবো।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস একদিকে যেমন একটা বিষয় হবে এবং সেই সঙ্গে সেখানে যে মূল্যবোধ এবং নীতি আসবে, তার মাধ্যমেই কিন্তু আমরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবো। অবশ্যই এর সঙ্গে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনার একটা ব্যাপার রয়েছে। শিক্ষকরা কীভাবে প্রশিক্ষণ করবেন, পাঠদান করবেন ক্লাসে, এই পুরোটা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কোর্সের ভেতরে থাকবে। আর নতুন করে আমরা তৃতীয় ভাষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছি। সেই তৃতীয় ভাষার ওপর একটা বেশ বড় ধরনের অধ্যায় আমাদের বিদ্যমান যে রূপরেখা আছে, তার ভেতরেই আসবে।’
আরও পড়ুন: এসএসসির ফল কবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
উপদেষ্টা বলেন, ‘সুতরাং নতুন বিষয় যোগ হচ্ছে চারটা। নতুন একটা বর্ধিত অধ্যায় যোগ হবে। সেগুলোর কোনোটা চতুর্থ শ্রেণি থেকে, কোনোটা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে। এর পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবেই যে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ও বিয়োজনটুকু প্রয়োজন, এটা আমরা চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমাদের যারা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবী রয়েছেন, তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে করবো।’
এ বিষয়গুলো কি আগামী বছর থেকে চালু হচ্ছে- জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা তিন মাসে সম্ভব নয়। উনি (উপদেষ্টা) ব্যাখ্যা দিলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে আমরা কী প্রবর্তন করছি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে কী প্রবর্তন করছি। আমরা প্রথমত এটাকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর পুরো পরিবর্তন যেটা আশা করছেন, সেটার আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পাবেন। তবে পরিমার্জন খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বই প্রবর্তন হচ্ছে।’
দলীয় বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনি টিআইবির রিপোর্ট নিয়ে টিআইবিকে জিজ্ঞাসা করুন। সেই ব্যাপারে আমি কোনো উত্তর দিতে রাজি নই। টিআইবির কাজ টিআইবি করবে, আমার কাজ আমি করবো। এটা নবনির্বাচিত সরকার। তারা জানবে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করবে? সেটা আমাদের একান্ত বিষয়। টিআইবির এমন কোনো রিপোর্ট দেওয়ার সময় এখনো হয়নি, আমরা শুধু যাত্রা শুরু করেছি।’
বিগত সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) অধীনে নেওয়া আইসিটি প্রকল্পের পুরোটাই লুটপাট হয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন করে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগে নতুন সরকার কতটুকু সফল হতে পারবে- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের লুটপাট সম্পর্কে আমি তো উত্তর দিতে পারবো না। তবে আমরা এই মন্ত্রণালয় থেকে একটা কমিটি অতি শিগগির করবো। আমরা ১৮০ দিনের কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত। এটা শেষ হলেই একটি কমিটি করবো এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিগত সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র ছাপাবো। এটা আমাদের ইচ্ছা আছে। আর ১৪ লাখ ট্যাব আমাদের লাগবে। আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা- এটা বিশাল প্রকল্প। এই বাজেট আমাদের পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটে আছে। এই অর্থবছরে আমরা জিডিপির ২ শতাংশ পাবো। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এই বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা হবে।
বিইউ/এমআই




