দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান ভালো নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রেমিডিয়াল শিক্ষা: কর্ম-অভিজ্ঞতা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। সেভ দ্যা চিলড্রেনের সহযোগিতায় ‘গণস্বাক্ষরতা অভিযান’ এই আয়োজন করে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আমি ছয় জেলার ২৫টি স্কুলে গিয়েছি। ক্লাসের রোল নাম্বার ১, ২ ও ৩ হয়তো পড়াশোনা পারে; ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ যত নিচের দিকে যাবেন; অনেক কিছুই পারছে না। যারা ক্লাস থ্রিতে আছে, তারা ক্লাস থ্রির উপযোগী না এবং যারা ফোর ও ফাইভে আছে, তারা এই ক্লাসের উপযোগী না; তাদেরকে কেউ সহযোগিতা করছে না। আমরা নতুন উদ্যোগ নিচ্ছি, যারা পিছিয়ে পরছে, তাদেরকে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। সবমিলিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরো বলেন, এই সরকার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং কাজ করব। বাচ্চাদেরকে সঠিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনা করেন সমস্যা নাই। তবে আমাদেরকে পরামর্শ দিয়েন এবং সহযোগিতা চাই। কিন্ডারগার্টেন, মাদরাসা ও স্কুলের বাচ্চারা যেন সঠিক শিক্ষা পায়, এটা আমাদের দায়িত্ব। প্রাথমিক শিক্ষাকে এক ছাতার নিয়ে আসতে চাই এবং সবাই যেন সঠিক শিক্ষা পায়।
সভায় রেমিডিয়াল শিক্ষা ও আগামীর ভাবনা উপস্থাপন করেন সেভ দ্যা চিলড্রেনের এডুকেশন লিড শাহীন ইসলাম ও হাজারীবাগ সরকারি কলেজের অধ্যাপক মুরশীদ আকতার।
শাহীন ইসলাম বলেন, প্রাথমিকে শিক্ষার গুণগত মান নেই। ক্লাস রুমের ব্যবস্থা আছে, শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। আবার শিক্ষক থাকলেও অনুপাতে শিক্ষক নেই। ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদেরকে সাপোর্ট দেওয়া, এদিকেও ঘাটতি রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অধ্যাপক মুরশীদ আখতার বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নানা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। যেই ঘাটতি রয়েছে, তাদের ঘাটতি পূরণে উদ্যোগ নিতে হবে। টিচার লার্নিং সার্কেল গড়ে তুলতে হবে। প্রধান শিক্ষককে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষকদেরকে নিয়ে বসতে হবে এবং ঘাটতি, সম্ভাবনা ও পরিকল্পনা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনা করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী ও বিশেষজ্ঞরা।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এই সরকার শিক্ষাটাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। শিক্ষাকে সরকার বড় এজেন্ডা মনে করে, এটা আমার কাছে ভালো লাগছে। শিক্ষা ছাড়া জাতির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বিগত যারাই এসেছে, এমন কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি শিক্ষাকে।
তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে কীভাবে শিক্ষার মান বাড়ানো যায়, এটার একটা মডেল তৈরি করেছি। যাতে সরকার কাজ করতে পারে। আগামী প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক তপন মাহমুদ দাস। অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে মতামত প্রদান করেন ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. শহীদ উজ জামান, চলপড়ি অ্যান্ড পার্টনারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা জেরিন মাহমুদ হোসেন, সেভ দ্যা চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্তসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/এফএ




