শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হলের খাবার খেয়ে অসুস্থ ৭০ ছাত্রী: ২ চিকিৎসকের অনুপস্থিতে সেবা ব্যাহত 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, যবিপ্রবি
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

শেয়ার করুন:

হলের খাবার খেয়ে অসুস্থ ৭০ ছাত্রী: ২ চিকিৎসকের অনুপস্থিতে সেবা ব্যাহত 

আবাসিক হলের খাবার খেয়ে অসুস্থ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ৭০ এর অধিক নারী শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম.আর.খান মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে সবাই, তবে এ সময় অনুপস্থিত ছিলেন নারী চিকিৎসক। এদিকে ওই আবাসিক হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলে রাতের খাবার খান শিক্ষার্থীরা। ভোর চারটা থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল নয়টায় মেডিকেল সেন্টার খুললে বীর প্রতীক তারমন বিবি হল থেকে একের পর এক ছাত্রী এসে সেবা নিতে থাকেন। দুপুর এগারোটা বাজতেই অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান মেডিকেল সেন্টারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা। তবে এসময় দায়িত্ব থাকা মেডিকেল ইনচার্জ ডা. মোছা. মাসুমা নূরজাহান ও নারী আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরত জামানকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়।


বিজ্ঞাপন


শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার রাতে প্রায় ১৬৬ জন শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করেন। যারা শুধু ডাইনিংয়ের খাবার খেয়েছে তাদের মধ্য থেকেই ৭০ এর অধিক শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। তবে যারা ডাল খায়নি তাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা কম লক্ষ্য করা গেছে। 

বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের ছাত্রীরা ডাইনিংয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে জানান, দুপুরের রান্না করা খাবার রাতে গরম করে পরিবেশন করা হয়, ফলে অনেক সময় খাবার থেকে দুর্গন্ধ আসে। ডাল ও তরকারিতে মুরগির পালক, চুলসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্লেট ও বাটিও অনেক সময় অপরিষ্কার থাকে। এছাড়া ডাইনিংয়ের আশাপাশে বিড়ালের উপদ্রবও আাছে, যা খাবারে মুখ দেয় মাঝে মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে ছাত্রীদের জিম্মি করে রাখা হয়। চার মাসের ফিক্সড টোকেন না কাটলে সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। আগে থেকেই মিলের টাকা পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। এছাড়া খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সময়মতো খাবার পানি সরবরাহ করা হয় না, টাকা দিয়ে এমন খারাপ খাবার খেতে বাধ্য করছে হল প্রশাসন। তাছাড়া, অভিযোগ করলে উল্টো দায়িত্ব এড়িয়ে, যে অভিযোগ করে তার ওপর 'মিল ম্যানেজার' এর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং খাবারের মান খারাপ হওয়ায় অনেকেই টোকেন কাটতে চায় না। কিন্তু তখন রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয়। আবার নিজেরা রান্না করতে গেলেও কুকার নিয়ে সমস্যা করা হয়। নিয়ে গেলে ফেরত দেওয়া হয় না। সর্বশেষ বলতে চাই, আমরা পড়াশোনা করতে এসেছি, অসুস্থ হয়ে কষ্ট পাওয়ার জন্য না। যদি প্রতিদিন এমন অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হতে হয়, তাহলে এই হল ব্যবস্থাপনার কোনো মানে নেই। আমাদের প্রশ্ন এই অব্যবস্থাপনার দায়ভার কে নেবে? আমাদের নিরাপদ খাবার, সুস্থ পরিবেশ এবং সম্মানজনক আচরণ পাওয়ার অধিকার আছে।

ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে যবিপ্রবির ড. এম আর খান মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারিক হাসান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছি, যাদের অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় একই রকম। গতকাল রাতে তারা হলের ডাইনিংয়ে ভাত, মাংস, ভর্তা এবং ডাল খেয়েছিল। পয়জনিংটি সম্ভবত সেখান থেকে ছড়িয়েছে। সবাই পেটে ব্যথা, বমি এবং লুজ মোশনে আক্রান্ত। ডায়রিয়াজনিত কারণে অনেকের শরীরে ফ্লুইডের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যার কারণে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমাদের স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প উপাদানের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিছু রোগীর অবস্থায় একটু জটিল আকার ধারণ করেছে, আমরা তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। তাদের অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে হয়ত এখানে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না, অন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


হলের ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. মোছা. আফরোজা খাতুন বলেন, আমরা কিছুক্ষণ আগে জানতে পারছি ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে। সহকারী হল প্রভোস্টকে পাঠিয়েছি মেডিক্যালে। শহরে থাকায় যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। অসুস্থ ছাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি। আর হলের ডাইনিংয়ের যে বিষয়টি, সেটি হলো গতকাল দুপুরে আমিও ডাইনিংয়ে খাবার খেয়েছি। রাতের খাবারে আসলে কী হয়েছে এখনো জানতে পারিনি। মিল ম্যানেজারের বিষয়ে যে অভিযোগ সেটা হলো, শিক্ষার্থীরা খাবার নিয়ে অভিযোগ করলে তখন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতেই ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ভালো ম্যানেজারদেরকে পুরস্কৃতও করা হয়।

মেডিকেল সেন্টারে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চিকিৎসকদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত জামান কল করে যানান তিনি ব্যস্ত আছেন পরে কথা বলবেন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর