মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

এসএসসি ঘিরে মতিঝিলে মুখরোচক খাবারের জমজমাট বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

SSc news
ফুটপাতে বসা এসব দোকানে চলছে পেয়ারা, ঝালমুড়ি, আইসক্রিম থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কলম-পেন্সিলের বেচাকেনা। ছবি: ঢাকা মেইল

রাজধানীর মতিঝিলের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর আশপাশে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী ক্ষুদ্র বাজার। ফুটপাতে বসা এসব দোকানে চলছে পেয়ারা, ঝালমুড়ি, আইসক্রিম থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কলম-পেন্সিলের বেচাকেনা।

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো যেন প্রাণ ফিরে পায়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের ফুটপাতগুলোতে অস্থায়ী দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় এলাকাটি জমজমাট হয়ে ওঠে।


বিজ্ঞাপন


কলম, পেন্সিল, স্কেল, পানি আর খাবারের বোতল ছাড়াও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে সবার নজর কাড়ে পেয়ারা, ঝালমুড়ি, চানাচুর, আইসক্রিমের মতো মুখরোচক খাবার। পরীক্ষা শুরুর আগে ও শেষে-দুই সময়েই এসব দোকানে ছিল ক্রেতার ঢল।

63adfd11-9451-49f8-acc4-e5e678b09388

মতিঝিল বালক বিদ্যালয়ের সামনে পেয়ারা বিক্রি করছিলেন আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার সময় এখানে লোকের ভিড় বেশি হয়। অভিভাবকেরা বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হালকা কিছু খেতে চান। পেয়ারা তেমনই একটা খাবার। আজকে বিক্রিও ভালো।’


বিজ্ঞাপন


আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে ঝালমুড়ির দোকান বসিয়েছিলেন বাবুল মিয়া। দুপুর গড়াতেই তার ঝালমুড়ির প্রায় সবটুকু শেষ। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে ভালো চলছে। অভিভাবকেরা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মুড়ি খাচ্ছেন, পরীক্ষা শেষে আবার শিক্ষার্থীরাও আসছেন।’

আর গরমের দিনে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ঠান্ডা খাবারের। মতিঝিল বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে শরিফুল ইসলাম আইসক্রিম বিক্রি করতে এসেছিলেন। তার কথায়, ‘গরমে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাটাই কষ্টের। আর ঠান্ডা কিছু পেলে মনটাও ভালো হয়ে যায়। অভিভাবকেরা আইসক্রিম নিচ্ছেন বেশি। আজকে অন্য দিনের চেয়ে দ্বিগুণ বিক্রি হয়েছে।’

অভিভাবকদের অনেকেই এ সুযোগে সকালের নাশতা সারছেন ফুটপাতের এই খাবারেই। নাসিমা আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘ছেলের পরীক্ষা, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। গরমে আইসক্রিম খেয়ে স্বস্তি পেলাম।’

180a3270-10d5-4f87-b597-62da40ae3328

অপর অভিভাবক শহিদুল ইসলাম ঝালমুড়ি খেতে খেতে বলেন, ‘ক্লান্তি চলে আসে। এই হালকা খাবার যেমন সময় কাটায়, তেমনি ক্ষুধাও মেটে।’

রেজাউল করিম নামের আরেক অভিভাবক বলেন, ‘আজকে পেয়ারা খেলাম, আবার আইসক্রিমও খেলাম। পরীক্ষার সময়ে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বেশ আয় করে ফেলেন।’

শুধু খাবার নয়, শেষ মুহূর্তের প্রয়োজন মেটাতে কলম-পেন্সিলের দোকানিরাও ব্যস্ত সময় কাটান। স্টেশনারি বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে এসে কলম কিনে নেয়। এমনিতেও এসএসসির সময় ভালো বিক্রি হয়।’

সকাল থেকে দুপুর-মতিঝিলের এসব কেন্দ্র ঘিরে যেন তৈরি হয়েছিল এক অস্থায়ী মেলার আমেজ। ফুটপাতজুড়ে ছোট ছোট দোকান, পাশে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা খাচ্ছেন বা কেনাকাটা করছেন-এমন দৃশ্য বারবার চোখে পড়েছে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরাও বেরিয়ে পছন্দের খাবার কিনতে ভিড় জমান।

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর