বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারি নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

Dhaka Central University
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের খসড়া উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুমোদিত এই খসড়া এখন ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেলেও এখনই অধ্যাদেশ জারি করা সম্ভব নয়। কারণ ভেটিং প্রক্রিয়ায় অধ্যাদেশে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসতে পারে। সে কারণে অধ্যাদেশ জারি হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।


বিজ্ঞাপন


নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত খসড়া অধ্যাদেশ ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ভেটিং শেষ হলে অধ্যাদেশ জারির সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নির্বাচনের আগেই’ এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হতে পারে।

উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের।


বিজ্ঞাপন


অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চারুকলা প্রভৃতি বিষয়ে পৃথক পৃথক ‘স্কুল’ গঠন করা হবে। প্রতিটি স্কুলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস অথবা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য ছাড়াই দেশি ও বিদেশি সব যোগ্য শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

এম/এএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর