বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

সাত বিষয়ে ৬০ নম্বরে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, ভাইভা-সনদে যত নম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

NTRCA
এনটিআরসিএ। ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য ৬০ নম্বরের লিখিত বা এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরীক্ষায় সাতটি বিষয়ের ওপর মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিতব্য সভায় চূড়ান্ত হতে পারে।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, তিনটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেবেন।


বিজ্ঞাপন


বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ বিধিমালার খসড়ায় মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ নম্বর লিখিত বা এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, লিখিত বা এমসিকিউ পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি আরও দুটি বিষয় যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন যুক্ত বিষয় দুটি হলো আর্থিক বিধিবিধান এবং প্রশাসনিক নিয়মকানুন। সব মিলিয়ে সাতটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবারের সভায় চূড়ান্ত হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আর্থিক বিধিবিধান সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতাও প্রয়োজন। এসব বিবেচনায় খসড়া বিধিমালায় এ দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, খসড়া বিধিমালায় প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে কোনো সংশোধন বা সংযোজনের প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে আগামীকালের কর্মশালায় অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খসড়া বিধিমালায় আরও যা বলা হয়েছে

খসড়া অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনা করবে এনটিআরসিএ। সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে শূন্য পদের চাহিদা পাঠাতে হবে।

শূন্য পদের চাহিদা যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পদভিত্তিক শূন্য পদের তিন গুণ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক।

মৌখিক পরীক্ষায় সফল প্রার্থীদের মধ্য থেকে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শূন্য পদের সমসংখ্যক প্রার্থীর একটি প্যানেল তালিকা প্রস্তুত করা হবে। সব পরীক্ষার ফলাফল ও চূড়ান্ত কৃতকার্যতা নির্ধারণে এনটিআরসিএর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এম/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর