বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত কর্মশালার তারিখ নির্ধারণ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই কর্মশালায় নিয়োগ বিধিমালাসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।
বিজ্ঞাপন
কর্মশালায় এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, তিনটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের বিধিমালা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় চূড়ান্ত করতেই বৃহৎ পরিসরে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভাতেই চূড়ান্ত কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
খসড়া বিধিমালায় যা প্রস্তাব করা হয়েছে
বিজ্ঞাপন
খসড়া অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব পালন করবে এনটিআরসিএ। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে শূন্য পদের চাহিদা পাঠাতে হবে।
চাহিদা যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে শূন্য পদের তিনগুণ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে। উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে প্যানেল তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এনটিআরসিএর সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।
খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া হবে। কোনো কারণে কেউ যোগদান করতে না পারলে প্যানেল তালিকার পরবর্তী প্রার্থীকে সুপারিশ দেওয়া হবে।
নিয়োগ সুপারিশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হবে এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে। তবে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলে কিংবা কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতে বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
এম/এএস

