বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জকসু নির্বাচনে নারী হেনস্তা, ঢাবি শিক্ষিকা মোনামির উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

জকসু নির্বাচনে নারী হেনস্তা, ঢাবি শিক্ষিকা মোনামির উদ্বেগ
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহিমা পুলিশকে তার আইডি কার্ড দেখাচ্ছেন। (ডানে) ঢাবির সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী)।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


বিজ্ঞাপন


শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লিখেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আমরা রাজনৈতিক যে পরিবর্তন আশা করেছিলাম সকল রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম‍্যান জনাব তারেক রহমানের বিগত দিনগুলোর আচরণ তাতে আমাদের মনে স্বস্তি বয়ে নিয়ে আসছিল।”

তিনি বলেন, “অন্তত তার (তারেক রহমান) দল ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে সুস্থ, সহযোগিতামূলক ও সুন্দর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা হবে দেশে সে আশাই করেছিলাম। কিন্তু আজ আশাহত হলাম, জকসু নির্বাচনে ভিন্ন দলের সমর্থিত প্যানেলের ভিপিপ্রার্থীর স্ত্রী ও জবি শিক্ষার্থী মাহিমা আক্তারকে আজকে যে হেনস্তা করা হলো তা কেমনতর রাজনৈতিক চর্চা ? এমনকি প্রকাশ্যে জোরপূর্বক হিজাব নিকাব খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হয়।”

শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, “এটা তো আরও লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। এটাই বা কেমন সু্স্থধারার রাজনীতি? আপনাদের দলের প্রার্থীও তো পর্দা করেন। নাকি আপনারাও বিগত ফ‍্যাসিস্ট সরকারের মতো এ দেশে কেউ স্বাধীনভাবে তার ধর্ম চর্চা করুক সেটাও চান না?”


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, “আমার লজ্জায় ও দুঃখে মাথা নুয়ে যাচ্ছে। এতোবড় একটা গণঅভ্যুত্থান, এরপরও আমরা আমাদের মেয়েদের সম্মান দিতে পারছি না। যারাই এমনটা করেছে তাও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে, আমি তাদের মূল দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ও সিনিয়র নেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখলাম। 

এভাবেই কি আপনারা গণতান্ত্রিক চর্চা করতে চান? আমি জানি আমি এ ইস্যু নিয়ে কথা বলায় আপনারা আমাকে একটা নির্দিষ্ট দলের সমর্থক বলবেন, আমাকে নিয়েই নংরামো শুরু হবে। তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকা বলেন, “আপনারা গণতান্ত্রিক চর্চা করুন। সুস্থধারার রাজনীতি করুন। তখন আমি আপনাদের পক্ষেও কথা বলবো। তখন আমাকে হয়তো অন‍্যরা আপনাদের দলের লোকই বলবে। আমি শুধু ন‍্যয়ের পক্ষে থাকতে চাই।”

প্রথমবারের মতো আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এরমধ্যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্থা ও পরে পুলিশে দেয়ার অভিযোগ উঠে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মহিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯  সেশনের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন ওই শিক্ষার্থী। এ সময় হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে দেখে তার পরিচয় জানতে চেয়ে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দীন বাসিত, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, বর্তমান সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন, জবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম এবং সেক্রেটারিও উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা পুলিশের কাভার্ড ভ্যান আটকে সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন।

এ সময় ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থী মাহিমা বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলাম তখন ছাত্রদলের ভাইয়েরা এসে আমাকে হেনস্তা করে।  সাথে আমার এক আত্মীয় ছিল, আমরা গেটের বাইরেই অবস্থান করছিলাম। এ সময় আমি হিজাব পরিহিত থাকায় আমাকে হিজাব ও মাস্ক খুলতে বলে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, তিনি আমার স্ত্রী ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বাইরে আমাদের প্যানেলের হয়ে কাজ করছিলেন। এদিন সকাল থেকেই ছাত্রদল গেটের বাইরে ধাক্কাধাক্কি করে। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তিনি আরও বলেন, তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা 'মব' সৃষ্টি করে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.  মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর এটি সমাধান করে দিয়েছি।

এসএইচ/এআর

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর