রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা: ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ঢাবি
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা: ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আট শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিতে শনাক্ত হওয়া এসব শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ।

প্রক্টর বলেন, ‘এফএইচ হলের প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে তার স্থলে ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মো. ইলিয়াস আল-মামুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত কমিটি হবে। অধিকতর তদন্ত করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

তোফাজ্জল হত্যায় জড়িত ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী

প্রক্টর আরও জানান, এখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হবে। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ক্লাস শুরু হবে।

গতকাল শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতে নেওয়া হলে বিচারকের খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন গ্রেফতার হওয়া ছয় শিক্ষার্থী। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাদী শাহবাগ থানায় মামলা করেন। পরে বিকেলে ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

তোফাজ্জল হত্যায় অভিযুক্ত ৬ শিক্ষার্থী ‘ছাত্রলীগের’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকলে কিছু ছাত্র তাকে আটক করেন। প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্টরুমে নিয়ে তিনি মোবাইল চুরি করেছেন অভিযোগ তুলে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় ও কিলঘুষি মারেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসা করলে তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান।

মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে ফজলুল হক মুসলিম হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাওয়ানো হয়। পরে ফজলুল হক মুসলিম হলের দক্ষিণ ভবনে গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে পেছনে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তোফাজ্জল অচেতন হয়ে পড়েন।

বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষককে জানালে তাদের সহায়তায় তোফাজ্জলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে একটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শনাক্ত আটজনের মধ্যে ছয়জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা গতকাল শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর