প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে কোনো ধরণের ইফতার পার্টি করা যাবে না বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে সমালোচনার মুখ পড়তে হয়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কর্তৃপক্ষকে। তাদের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। কর্তৃপক্ষকে ধুয়ে দেন অনেকে। শুধু তাই নয়, শাবিপ্রবির এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণইফতারের ঘোষণা দিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতি নিজেদের অবস্থান বদল করেছে কর্তৃপক্ষ। জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ ব্যতীত ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা যাবে।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
ইফতার আয়োজনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ ব্যতীত ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ছোট পরিসরে যেকেউ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ খরচ করা যাবে না।
শাবিপ্রবি উপাচার্য জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় এবং নিজেদের খরচে ছোট পরিসরে ইফতার মাহফিল আয়োজন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো নিষেধাজ্ঞা কিংবা আর্থিক সহযোগিতা থাকবে না।
এদিকে সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ইফতার পার্টি আয়োজন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।
কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। নির্দেশনার কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই সমালোচনা করেন।
যদিও বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বড় ধরণের ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ ফেসবুকে লিখেছেন, সরকারি অর্থ খরচে ইফতার পার্টি না করার একটা নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর আছে। মূল উদ্দেশ্য খরচ বাঁচিয়ে সাধারণ মানুষের উপকার করার। কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে ইফতার পার্টি করা যাবে না, এ মর্মে তিনি কিছু বলেননি। তাহলে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর নাম কেন আসছে?
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশার কথা তুলে ধরে আদনান ফাহাদ লিখেছেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে ইফতার পার্টি করা যাবে না, এমন কথা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন আমি শুনিনি। ক্যাম্পাসের ভেতর হাজার হাজার ছেলে মেয়ে প্রতিদিন (সব ধর্মের) ইফতার করে। ছোলা বুট, মুড়ি, জিলাপির ইফতার সবাই করে। নিজেরাই নিজেদের ইফতার করে। ক্যাম্পাসের ভেতরে ইফতার করা যাবে না মর্মে যে নির্দেশনা শাবিপ্রবি দিয়েছে সেটি ইচ্ছে করেই ঝামেলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দিয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এ বিষয়টি দেখুক প্লিজ। আওয়ামী বিরোধীরা যে কত বড় শয়তানি করতে পারে তার এটি একটি নমুনা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করা। আওয়ামী লীগ বিরোধীরা খুব জলঘোলা করছে এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে। কে যে আওয়ামী লীগ আর কে যে আওয়ামী বিরোধী সেটা বোঝা এখন কঠিন হয়ে গেছে।'
বিল্লাল হোসেন সাগর নামে একজন লিখেছেন, ক্যাম্পাসে নাচ গান পূজা করা যেমন একজন শিক্ষার্থীর অধিকার ঠিক তেমনি রমজান মাসে ইফতার পার্টি করাও তার অধিকার। বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাপের সম্পত্তি না যে যা ইচ্ছে তাই নির্দেশনা দেবে?
বিইউ/এমআর




