মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

আমানত কমছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

আমানত কমছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে
ফাইল ছবি

দেশের ব্যাংকগুলোতে আমানত বা ডিপোজিট কমে আসার প্রভাব পড়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের।

সদ্যবিদায়ী ২০২২ সালের নভেম্বরে বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাগুলোতে গ্রাহকরা আমানত রেখেছেন ২৯ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। এর আগের মাসে অর্থাৎ ২০২২ সালের অক্টোবরে আমানতের পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত কমেছে ৯৬৮ কোটি টাকা।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আমানত সংগ্রহে শহরের চেয়ে এগিয়ে গ্রামাঞ্চলের শাখাগুলো।

গত বছরের নভেম্বরে প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাহকরা মোট ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকার আমানত রাখেন। অক্টোবরে গ্রামাঞ্চলের এজেন্ট শাখাগুলো আমানত সংগ্রহ করেছিল ২৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসে গ্রামাঞ্চলের শাখাগুলোর আমানত কমে ৯৭১ কোটি টাকা।

>> আরও পড়ুন: রিজার্ভ চুরি: নিউইয়র্কের আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে রায়

অপরদিকে গত নভেম্বরে শহরের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাগুলোতে মোট ৫ হাজার ৯১১ কোটি টাকার আমানত রাখেন গ্রাহকরা।


বিজ্ঞাপন


ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, মূলত দুটি কারণে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রভাব পড়েছে। প্রথমত, মুদ্রাস্ফীতি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ডিপোজিট কমিয়ে দিয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব দেশের গ্রামাঞ্চলেও পড়েছে। ফলে লোকজন এখন আগের মতো সঞ্চয় করতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হওয়ার কারণে ব্যাংক খাতের উপর মানুষের আস্থার কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের লোকজন বিভিন্ন রিউমার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকে টাকা রাখার বদলে হাতে নগদ টাকা রাখার প্রবণতা বেড়েছে। মূলত এই দুই কারণেই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত কমেছে।

>> আরও পড়ুন: আইএমএফে ৩০ জানুয়ারি অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশের ঋণ

এদিকে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও আগের মাসের চেয়ে বেশ এগিয়ে ছিল এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাগুলো। গত নভেম্বরে মোট ঋণ বিতরণ করে ৭৮৭ কোটি টাকার, যা আগের মাসের চেয়ে ১১২ কোটি টাকা বেশি। এরমধ্যে ২৬৯ কোটি টাকা বিতরণ হয় শহরে এবং গ্রামাঞ্চলের শাখাগুলো বিতরণ করে ৫১৮ কোটি টাকা। এর আগের মাসে অর্থাৎ অক্টোবরে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৬৭৪ কোটি টাকা।

অপরদিকে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। গত নভেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হয়েছে মোট ২৫৬ কোটি টাকা। এর আগের মাসে অর্থাৎ অক্টোবরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা হয়েছিল ২২৮ কোটি টাকা।

তবে নভেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাগুলোতে আগ্রহ বেড়েছে প্রবাসীদের। ফলে প্রবাসী আয় সংগ্রহ বেড়েছে এসব শাখাগুলোতে। মাসটিতে মোট ২ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসে এজেন্টদের মাধ্যমে, যা আগের মাসের চেয়ে ২১৬ কোটি টাকা বেশি। অক্টোবরে এজেন্টের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার রেমিট্যান্স সংগ্রহ হয়েছিল।

এইচআর/জেএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর