বাজার থেকে বড় মাছ কিনেছেন, কিন্তু বাসায় কাটার ব্যবস্থা নেই। কারও বাসায় বড় দা-বটি নেই, কেউ আবার মাছ কাটতে অভ্যস্ত নন। আবার রাজধানীতে একা থাকা অনেক ব্যাচেলরের জন্যও বড় মাছ কাটা বাড়তি ঝামেলা। তাই মাছ কেনার পর তা কেটে নিতে ভরসা যাত্রাবাড়ী আড়তের মাছ কাটা শ্রমিক বা মাছ খুটানিদের ওপর। দক্ষ হাতে কয়েক মিনিটেই মাছ কেটে রান্নার উপযোগী করে দেন তারা। প্রতিটি মাছ কাটার জন্য নেন ২০ টাকা। এই সেবা নিয়ে সুবিধা পাচ্ছেন ক্রেতারা, আর মাছ কাটার কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীতে যাত্রাবাড়ী আড়তের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতাদের আনাগোনায় জমে উঠেছে বাজার। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলনামূলক কম দামে মাছ কিনতে আসেন অনেকে। কেনাকাটা শেষে তাদের কেউ কেউ মাছ নিয়ে হাজির হন মাছ কাটার এসব শ্রমিকদের কাছে। গৃহিণীদের পাশাপাশি ব্যাচেলরদেরও মাছ কাটিয়ে নিতে দেখা যায়।
বাজারের এক পাশে দা-বটি নিয়ে বসে আছেন মাছ খুটানিরা। ক্রেতা মাছ এগিয়ে দিতেই দ্রুত হাতে শুরু করেন কাটার কাজ। মাছের আঁশ ছাড়ানো, পেট পরিষ্কার করা, মাথা আলাদা করা থেকে শুরু করে টুকরো করা পর্যন্ত সবই করেন দক্ষ হাতে। তাদের দ্রুত ও নিপুণভাবে মাছ কাটার দৃশ্য নজর কাড়ে আশপাশের মানুষের।
শহরের অনেক বাসায় বড় মাছ কাটার উপযোগী দা-বটি নেই। আবার অনেক গৃহিণী বড় মাছ কাটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। অন্যদিকে, রাজধানীতে একা থাকা অনেক ব্যাচেলরও রান্নার জন্য মাছ কিনলেও তা কাটার ঝামেলা এড়াতে চান। ফলে বাজার থেকেই মাছ কেটে নেওয়াকে সুবিধাজনক মনে করেন তারা। এতে বাসায় গিয়ে মাছ পরিষ্কার ও কাটার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না।
যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচায় ব্যাচেলার থাকেন আশরাফুল ইসলাম বলেন, বড় মাছ বাসায় নিয়ে কাটতে সমস্যা হয়। এখানে কিনেই কেটে নেওয়া যায়। ২০ টাকা খরচ হলেও সময় বাঁচে ও ঝামেলা কমে যায়।
মাছ খুটানিদের এই সেবা ক্রেতাদের জন্য যেমন সুবিধাজনক, তেমনি তাদের জীবিকারও মাধ্যম। প্রতিটি মাছ কাটার বিনিময়ে ২০ টাকা করে পান তারা। দিনে কতটি মাছ কাটতে পারছেন, তার ওপর নির্ভর করে তাদের আয়। শুক্রবারের মতো ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতা বাড়লে কাজের চাপও বাড়ে।
সুজন মিয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, মাছ কাটার কাজ করি চার/পাঁচ বছর। আসলে একেকজন একেক কাজ করে খায়। মাছ কাটা শুরু করার পর এখন এই পেশা ভালো লাগে। প্রতিদিন কত মাছ যে কাটি তার হিসাব থাকে না। বড় মাছ কাটতে আনন্দ লাগে। আমাদেরও কিছু আয় হয়। ক্রেতাদের বাসায় গিয়ে বাড়তি ঝামেলা করতে হয় না।
মাছ কাটার কাজটি সহজ মনে হলেও এতে প্রয়োজন অভিজ্ঞতা ও সতর্কতা। ধারালো দা-বঁটি দিয়ে দ্রুত মাছ কাটতে গিয়ে সামান্য অসাবধানতাও বিপদের কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভ্যাসে মাছ খুটানিরা এই কাজে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মাছ ছোট-বড় টুকরো করেও দেন তারা।
যাত্রাবাড়ী আড়তের মাছ বাজারে কেনাবেচার ব্যস্ততার পাশাপাশি এভাবেই চলছে মাছ খুটানিদের জীবিকা। ক্রেতাদের কাছে ২০ টাকার এই সেবা মাছ কেনার পর বাড়তি সুবিধা, আর শ্রমিকদের কাছে প্রতিদিনের আয়-রোজগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন এই পেশা।
এমআর/এফএ




