সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘‌খেলাপিদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ ও চেক ডিজঅনারের মামলা একসঙ্গেই চলবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘‌খেলাপিদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ ও চেক ডিজঅনারের মামলা একসঙ্গেই চলবে’
খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ ও ‘চেক ডিজঅনার’–এর মামলা একসঙ্গে চালাতে পারবে

খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ ও ‘চেক ডিজঅনার’–এর মামলা একসঙ্গেই চালাতে পারবে জানিয়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, টাকা নিলে টাকা দিতে হবে— এটা স্পষ্ট কথা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া একটি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এর ফলে চেক ডিজঅনার ও অর্থঋণের মামলা একসঙ্গে চলতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের এক আদেশের পর এ কথা জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এর আগে গত বছরের  ১৯ মার্চ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে বলেছিল, খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩ থাকা অবস্থায় নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্ট-১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় চেক ডিজঅনারের মামলা করা বেআইনি ও এখতিয়ারবহির্ভূত। ওই রায়ে চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করে ব্যাংকগুলোর জন্য কিছু গাইডলাইন দেওয়া হয়েছিল।

পরে রাষ্ট্রের লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের  ২৬ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল  বলেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের গত ২৮ সেপ্টেম্বর  হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ (বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার) একইভাবে তিনটি মামলার ক্ষেত্রে চলমান চেক ডিজঅনার ও ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে আদেশ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায়। আজ সেই তিনটি মামলার শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ২৮ সেপ্টেম্বরের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করে দিয়েছেন।

এই আদেশের ফলে আইনি পরিস্থিতি কী দাঁড়াল— এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এর ফলে কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে পাওনা আদায়ের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে। একইসঙ্গে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকা সত্ত্বেও চেক দিয়ে প্রতারণা করার জন্য তার বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারায় ফৌজদারি মামলাও চলবে। দুটি ভিন্ন বিচারব্যবস্থা একসঙ্গে চলতে আর কোনো বাধা থাকল না।

তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ প্রণীত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের আমানতের টাকা আত্মসাৎকারীদের কাছ থেকে আদায় করা এবং প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা নিলাম করা।

অন্যদিকে, ১৮৮১ সালের আইন অনুযায়ী চেক ডিজঅনার একটি ফৌজদারি অপরাধ, যার শাস্তি এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং চেকের মূল্যের তিনগুণ জরিমানা।

‘টাকা নিলে ফেরত দিতে হবে’

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কড়া বার্তা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যারা ব্যাংকের টাকা নিয়ে মনে করে আর ফেরত দিতে হবে না, বিদেশে টাকা পাচার করে, বেগমপাড়া তৈরি করে, তাদের আইনের আওতায় আনতেই এই ব্যবস্থা। দুষ্ট ব্যক্তিরা যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে নিজের সম্পত্তি মনে করে, জনগণের জমানো টাকা নয়-ছয় করে, তাদের জন্যই দেশের অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আজ দেউলিয়া হওয়ার পথে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ ঋণগ্রহীতা যারা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করবে না, তাদের জন্য আজকের আদেশটি একটি বড় বার্তা। এখন শুধু তাদের সম্পত্তিই যাবে না, তাদের ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, সাজা হতে পারে এবং তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানাও হতে পারে।

তবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ভয়ের কিছু নেই জানিয়ে রাষ্ট্রের এই শীর্ষ আইন কর্মকর্তা বলেন, যারা প্রকৃত অর্থে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ওয়ান-টাইম এক্সিটসহ বিভিন্ন ধরনের নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ দেওয়া হচ্ছে। আর নীতিগত সুযোগের অপব্যবহার যেন কেউ করতে না পারে, সেজন্যই আজকের এই আইনি উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, যারা ভালো ব্যবসায়ী, দেশের কল্যাণে কাজ করতে চান, তাদের জন্য এটি সুখবর। আর যারা নানা রকম ফন্দি-ফিকির করে বাংলাদেশের জনগণকে বঞ্চিত করে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন, তাদের জন্য এটি একটি দুঃসংবাদ।

আরএনবি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর