রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপ্তাহিক বাজার করতে যাত্রাবাড়ী আড়তে ছুটে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। মাছ, মাংস ও সবজি তুলনামূলক কম দামে কেনার আশায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালেও আড়তটিতে দেখা গেছে ক্রেতাদের আনাগোনা। খুচরা ক্রেতাদের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার দোকানিরাও এখান থেকে পাইকারি দামে পণ্য কিনে নিয়ে যান। পরিবহন খরচ ও লাভ যোগ হয়ে স্থানীয় দোকানে এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে বাজার করতে আসা অনেকের কাছে যাত্রাবাড়ী আড়ত হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ের জায়গা।
শুক্রবার সকালে যাত্রাবাড়ী আড়তে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ও সবজির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, দুনিয়া, কদমতলী, দয়াগঞ্জ, কুতুবখালী, শনির আখড়া ও রায়েরবাগসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাজার করতে আসছেন। কেউ পরিবারের সাপ্তাহিক বাজার করছেন, কেউ আবার পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রির জন্য কিনছেন মাছ ও সবজি।
আড়তে আসা ক্রেতাদের ভাষ্য, স্থানীয় বাজারের তুলনায় এখানে কিছু পণ্য কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কম দামে পাওয়া যায়। বিশেষ করে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে মাছ, সবজি ও অন্যান্য পণ্য কিনতে হলে এই দামের পার্থক্য তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাইকারি দামে পণ্য কিনে পাড়া-মহল্লার দোকানিরা তা খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। এ ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ ও নিজেদের লাভ যোগ হওয়ায় ক্রেতাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। অন্যদিকে, সরাসরি আড়ত থেকে কেনাকাটা করলে মধ্যবর্তী খরচের কিছুটা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়।
চাকরিজীবীদের অনেকেই ছুটির দিনে সাপ্তাহিক বাজার করার জন্য যাত্রাবাড়ী আড়তকে বেছে নেন। আবার বাসায় অতিথি আপ্যায়ন কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য একসঙ্গে বেশি বাজারের প্রয়োজন হলেও অনেকে এখানে আসেন। তাঁদের লক্ষ্য, তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে খরচ কমানো।
বেসরকারি চাকরিজীবী রায়হান আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমার মহল্লায় ছোট বাজার রয়েছে তারপরও যাত্রাবাড়িতে আসি কিছুটা কম দামে পাওয়ার আসে পাওয়ার আশা। কারণ এখানে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি পণ্য নামানো হয়। আমার মহল্লায় এখান সবজি মাছ নিয়ে যান বিক্রেতারা।’
যাত্রাবাড়ী আরতের সবজি ব্যবসায়ী হারুন আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের এখানে শুক্রবারে বেশি বেচাকেনা হয়। কারণ সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই ভিড় জমান। খুচরা কেতার পাশাপাশি পাইকারি কিরে ক্রেতারাও এখানে আসেন।’
যাত্রাবাড়ী আড়তে মাছের দাম
শনিবার সকালে আড়তে বিভিন্ন ধরনের মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়।
বিক্রেতাদের দেওয়া দাম অনুযায়ী, প্রতি কেজি বোয়াল মাছ ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা, চাষের কই ২০০ টাকা, চিংড়ি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং পোয়া মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া শিং মাছের দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাষের মাগুর ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা এবং পাবদা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
সবজির বাজারদর
সবজির বাজারেও রয়েছে বিভিন্ন দামের পণ্য।
শনিবার সকালে প্রতি কেজি করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, পটল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কুমড়া ৩০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, লাউ ৪৯ টাকা, শসা ৫০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কলা বিক্রি হচ্ছে হালিপ্রতি ২০ টাকায়।
সাপ্তাহিক বাজার কিংবা একসঙ্গে বেশি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে যাত্রাবাড়ী আড়তে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে পণ্যের মান, আকার ও ধরন অনুযায়ী দাম কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
এমআর/এএম




