শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম

শেয়ার করুন:

সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
সয়াবিন তেল। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে তেলের দাম বাড়ানোকে বাড়তি বোঝা হিসেবে দেখছেন তারা। তবে স্থানীয় বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে থাকা আগের দামের তেল এখনো বিক্রি হচ্ছে। নতুন দামের তেল আসার পর বাড়তি দাম কার্যকর হবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৯৯ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দাম সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কাজীপাড়া, মিরপুর এলাকাসহ বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার কয়েকটি মুদি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও আগের দামের তেল বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে, আবার কোথাও নতুন দামের তেল আসার অপেক্ষায় রয়েছেন বিক্রেতারা।

স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষও দেখা গেছে। এর আগে রাজধানীর কাজীপাড়ায় বাজার ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ার তথ্যও পাওয়া গিয়েছিল।

কাজীপাড়া এলাকার ক্রেতা মামতাজ মহল, তেল, চাল, ডালসহ সবকিছুর দাম বাড়ছে। এখন আবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলো। মাসের বাজার করতে গিয়ে প্রতিবারই আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগছে। আয় তো সেই তুলনায় বাড়ছে না।

একই এলাকার ক্রেতা মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সয়াবিন তেল প্রতিদিনের রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্য। তাই দাম বাড়লে চাইলেও এর ব্যবহার কমানো যায় না। বাজারে একটার পর একটা পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো।’

মিরপুর এলাকার বাসিন্দা আফজাল মিয়া জানান, বাসা ভাড়া, যাতায়াতসহ সংসারের অন্যান্য খরচও বেশি। তার ওপর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। তেলের দাম আবার বাড়ানো হলে মাসের খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

ক্রেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়লে তাদেরও বিক্রি কমে যায়। এরই মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতারা প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন। নতুন দামের তেল বাজারে এলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। 

ক্রেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে কাজীপাড়া এলাকার মুদি দোকানদার মানিক হোসেন বলেন, ‘এখন দোকানে যে তেল আছে, তার গায়ে আগের দামই লেখা রয়েছে। নতুন দামের তেল এখনো পুরোপুরি আসেনি। নতুন চালান এলে কোম্পানির নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে হবে।’

আরেক বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তেলের দাম বাড়লে ক্রেতারা পরিমাণ কমিয়ে দেন। আগে যারা দুই-তিন লিটার নিতেন, তারা এখন হয়তো এক লিটার নিচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের যেমন খরচ বাড়ছে, আমাদের বিক্রিও কমছে।

মিরপুর এলাকার স্থানীয় মুদি দোকানদার আফতাব আলম বলেন, ‘তেলের সরবরাহ নিয়ে আগেও সমস্যা ছিল। চাহিদা অনুযায়ী সব সময় তেল পাওয়া যায়নি। এখন দাম বাড়ার পর ক্রেতারা আরও সতর্ক হয়ে কিনছেন।’

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর