শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

সুপারশপ ও লোকাল বাজারে একই ফলের দামে বিস্তর ফারাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

সুপারশপ ও লোকাল বাজারে একই ফলের দামে বিস্তর ফারাক

রাজধানীর বাজারে দেশি-বিদেশি ফলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও একই ফলের দামে বেশ পার্থক্য দেখা গেছে সুপারশপ ও স্থানীয় বাজারে। কোথাও সুপারশপের চেয়ে স্থানীয় বাজারে কম দামে ফল মিলছে, আবার কোনো কোনো ফলে উল্টো চিত্রও রয়েছে। ফলে কেউ দরদাম করে স্থানীয় বাজার থেকে ফল কিনছেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট দাম, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনমতো ফল কেনার সুবিধার কারণে বেছে নিচ্ছেন সুপারশপ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজার এলাকায় স্বপ্ন, আগোরা সুপারশপ ও স্থানীয় ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফলের দাম মূলত জাত, আকার ও মানের ওপর নির্ভর করছে। একই এলাকার তিন ধরনের বাজারে একই ফলের দামে বেশ কিছু পার্থক্যও রয়েছে।

মগবাজারের স্বপ্নে প্রতি পিস আনারস বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়। সাগর কলা প্রতি পিস ১২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং চিনি চম্পা কলা ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। প্রতি কেজি গালা প্রিমিয়াম আপেল ৪৫০ টাকা, ফুজি প্রিমিয়াম আপেল ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৩৩০ টাকা, ডালিম ৫২৫ টাকা, মাল্টা ২৮৫ টাকা, দেশি পেয়ারা ১০৫ টাকা, লাল আঙুর ৫৯৫ টাকা এবং কমলা ৪২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ২৪২ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে আগোরা সুপারশপে সাগর কলা প্রতি পিস ১৪ টাকা, চম্পা কলা ৭ টাকা এবং সবরি কলা ১৫ টাকা। প্রতি পিস ডাব ১৫০ টাকা ও আনারস ৫৫ টাকা। প্রতি কেজি কমলা ৩০০ টাকা, লটকন ২০০ টাকা, আপেল ৪২০ টাকা, আনার ৪৯৫ টাকা, সাদা আঙুর ৩৮০ টাকা এবং মাল্টা ২৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে স্থানীয় ফলের বাজারে দাম আরও কিছুটা ভিন্ন। সেখানে আকারভেদে প্রতি পিস কলা ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং আনারস ২০, ৩০ ও ৪০ টাকা। ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২২০ টাকায়। দেশি পেয়ারা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, আপেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, আঙুর ৪০০ টাকা, আনার ৪৫০ টাকা এবং পাকা পেঁপে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দামের তুলনায় দেখা যায়, স্বপ্নের তুলনায় স্থানীয় বাজারে দেশি পেয়ারায় কেজিতে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। স্বপ্নে ৫২৫ টাকা কেজি দরের ডালিম স্থানীয় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। আনারসেও স্থানীয় বাজারে দাম কম; স্বপ্নের ৪২ টাকার বিপরীতে আকারভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা।

তবে সব ফলেই স্থানীয় বাজার সস্তা নয়। ডাবের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে আকারভেদে দাম ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, যেখানে আগোরায় নির্ধারিত দাম ১৫০ টাকা। কলার ক্ষেত্রেও পার্থক্য তুলনামূলক কম। স্থানীয় বাজারে আকারভেদে কলা ১০ থেকে ১৫ টাকা, স্বপ্নে সাগর কলা ১২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং আগোরায় ১৪ টাকা। চম্পা কলার দাম স্বপ্নে ৫ টাকা ৭৫ পয়সা ও আগোরায় ৭ টাকা।

ফল বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে ক্রেতাদের উপস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। ফলের দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের ওঠানামা নেই।

মগবাজারের এক ফল বিক্রেতা বলেন, লোকজন আসছে, দামাদামি করে কিনছে। ফলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।

ক্রেতাদের মধ্যেও বাজার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে। বদরুল আলম নামে এক ক্রেতা ঢাকা মেইলকে বলেন, ফলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। তবে পেয়ারার দাম কিছুটা বেশি। দেশি ফল এত দাম হওয়া উচিত না।

সুপারশপের পরিবর্তে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ। দামাদামি করে কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এতে কিছুটা হয়তো কম দামে পাই। সুপারশপে তো দাম ফিক্সড।

তবে সুপারশপে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য দেখছেন অন্য ক্রেতারা। স্বপ্নের ক্রেতা আল আমিন মেহেদি ঢাকা মেইলকে বলেন, সুপারশপের প্রতি আস্থার একটা বিষয় আছে যে তারা ফ্রেশ ফল দেবে। আমি দামাদামিতে খুব একটা ভালো না। এখানে তারা একটা নির্দিষ্ট দাম রাখছে, যা আমার জন্য সুবিধাজনক।

সুপারশপের আরেকটি সুবিধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় যে সুবিধা তা হলো, আমি আমার ইচ্ছেমতো পরিমাণে নিতে পারছি। যেমন আমি মাত্র একটা নাশপাতি নিয়েছি। লোকাল দোকানে একটা ফলের কথা বলা কিছুটা বিব্রতকর।

ফলে ফল কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম নয়, মান, পরিবেশ, দরদামের সুযোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ বেছে নেওয়ার সুবিধাও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় বাজারে তুলনামূলক কম দামে ফল পাওয়ার সুযোগ থাকলেও সেখানে দরদাম করতে হয়। বিপরীতে সুপারশপে নির্ধারিত দাম থাকায় দরদামের ঝামেলা নেই, পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা দুটি ফল কেনার সুযোগও রয়েছে।

এসব কারণে একই এলাকার বাজারে ফলের দামে যেমন ভিন্নতা রয়েছে, তেমনি ক্রেতাদের পছন্দেও রয়েছে পার্থক্য। বাজেট সচেতন ক্রেতারা স্থানীয় বাজারে দরদাম করে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আর সময়, সুবিধা, পরিবেশ ও নির্ধারিত দামকে গুরুত্ব দেওয়া ক্রেতাদের অনেকে বাড়তি দাম থাকলেও সুপারশপকেই বেছে নিচ্ছেন।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর