রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি পোশাক কারখানাগুলোর বকেয়া রফতানি অর্থ পরিশোধ না করার ঘটনায় দায়ী পক্ষের কাছেই পাওনা-দেনা নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও পোল্যান্ডভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলপিপি। একই সঙ্গে সীমিত কয়েকটি পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে পুরো পোশাক খাত ও বাংলাদেশের সঙ্গে এলপিপির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দুই পক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থানের কথা জানানো হয়। এতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এলপিপির পরিচালক (পারচেজিং অ্যান্ড ইএসজি) ডোরোটা জানকোভস্কা-টমকৌ স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার এফইএস রিটেইলের কাছে প্রায় ৪০টি বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীর আনুমানিক ৪ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি অর্থ বকেয়া রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাশিয়ার ওই ক্রেতার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে এলপিপির ঢাকার কার্যালয় মধ্যস্থতা বা সহায়তা করেছে।
তবে এলপিপি বলেছে, বর্তমানে আলোচনায় থাকা বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু চুক্তি ও ইনভয়েস-সংক্রান্ত বকেয়া দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবির ক্ষেত্রে এলপিপি কোনো দেনাদার নয় এবং আইনগতভাবে অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও তাদের নেই। বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের পাওনা তারা নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করে আসছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, এলপিপির এ অবস্থান তারা বিবেচনায় নিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আইনগত দায় বর্তায়, পাওনা-সংক্রান্ত দাবিও তাদের কাছেই উত্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো যে কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, সেটিও স্বীকার করেছে দুই পক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাওনা নিষ্পত্তি নিয়ে যেকোনো আলোচনা আইনগতভাবে দায়ী পক্ষের সঙ্গেই হওয়া উচিত। তবে এলপিপি তার নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
এলপিপি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই পর্যালোচনা কোনো প্রস্তুতকারকের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি এবং বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক অংশীদারদের প্রতি এলপিপির দায়বদ্ধতার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
বিজিএমইএ ও এলপিপি বলেছে, বাংলাদেশে এলপিপির সঙ্গে বর্তমানে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ৩৫০টির বেশি প্রস্তুতকারক রয়েছে। সীমিতসংখ্যক তৃতীয় পক্ষের বিরোধের কারণে যেন এসব প্রতিষ্ঠানসহ পুরো পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত।
এ কারণে ঢালাও, বিভ্রান্তিকর বা এমন কোনো প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা অন্য প্রস্তুতকারক, পোশাকশ্রমিক কিংবা এলপিপির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে বিষয়টির সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বিজিএমইএ। এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে কোনো ধরনের অনুচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনি জটিলতার শিকার না হন, সে বিষয়েও সহযোগিতার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই যৌথ অবস্থান কোনো পক্ষের আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের অধিকারকে খর্ব করছে না। একইভাবে আইনগতভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকারও সীমিত করা হচ্ছে না।
বিজিএমইএ ও এলপিপি তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে তারা একসঙ্গে কাজ করতে চায়। চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই পক্ষ।
এমআর/এআর




