ভারত থেকে আমদানির প্রভাব রাজধানীর বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন অনেক বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় নেমে এসেছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম আরও কমে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও রাজধানীর ভোক্তাদের জন্য সামগ্রিক বাজারের চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজি, দেশি মাছ, ডিম, পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং চিকন ও সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে। ফলে বাজারে গিয়েও স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিরপুর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচের দাম আগের তুলনায় কমলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনো অনেক বেশি। ঝিঙে, কাঁকরোল, পটোল ও বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। করলা ও ঢ্যাঁড়শের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে পুঁইশাকের একটি আঁটি ৬০ টাকা এবং সাধারণ শাকের আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের আড়ত ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামরিচ এখন পাইকারি বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ১৩৫ টাকা। পর্যাপ্ত সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে খুচরা বাজারে এখনো অনেক বিক্রেতা বেশি দামে মরিচ বিক্রি করছেন।’
আরও পড়ুন: কাঁচা মরিচের বিকল্প কী?
সরকারের উদ্যোগে সরবরাহ সংকট কাটাতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রথম দুই চালানে প্রায় ২৫ টন কাঁচামরিচ দেশে এসেছে। এই আমদানির ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে রাজধানীর পাইকারি বাজারে পড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে কাঁচামরিচ ছাড়া অন্য পণ্যের বাজারে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলমান বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন কমেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, ‘আগে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে প্রচুর সবজি ঢাকায় আসত। কিন্তু বন্যায় অনেক কৃষকের জমি পানির নিচে চলে গেছে এবং কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। এখন আগের তুলনায় অনেক কম পণ্য আসছে। সরবরাহ কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।’
কিচেন মার্কেটের ডিম ব্যবসায়ী মো. রফিকুল হক বলেন, ‘বন্যার কারণে উৎপাদন কমেছে, এমন অজুহাত দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। বাজার তদারকি জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।’
মিরপুর এলাকার কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন বলেন, ‘কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমলেও তাতে সাধারণ মানুষের খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। কারণ অন্যান্য সবজির দাম গত এক মাসে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সংসারের খরচ সামলানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।’
একই বাজারে গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, ‘বাজারে এলে এখন কোনো পণ্য কিনে স্বস্তি পাওয়া যায় না। ডিম, মাছ, সবজি, আদা, পেঁয়াজ সবকিছুর দামই বেশি। কাঁচামরিচের দাম কমেছে, কিন্তু সেটি একা পুরো বাজারের চাপ কমাতে পারছে না।’
এএইচ/এমআই




