হাতে একটি কাপড়ের ব্যাগ। তাতে আলু, পেঁপে আর অল্প কিছু সবজি। মাছের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখলেন, পরে আর এগোলেন না। হিসাব মিলছিল না। বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন বেসরকারি চাকরিজীবী মিজানুর রহমান। বললেন, ‘আগে মাছ বা মাংস কিনলেই বেশি টাকা খরচ হতো। এখন সবজি কিনতেই সবচেয়ে বেশি টাকা যাচ্ছে। চার-পাঁচ ধরনের সবজি নিলেই পাঁচ-ছয়শ টাকা শেষ।’
কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মিজানুর রহমান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিরপুর-৬ কাঁচাবাজারে বাজারে এসে তার সঙ্গে কথা হয়।
তিনি জানান, মাসের শুরু হওয়ায় বাজারের তালিকাটা একটু বড় ছিল। কিন্তু সবজির দাম দেখে শেষ পর্যন্ত অনেক কিছুই বাদ দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাসায় দুই সন্তান। প্রতিদিনই সবজি লাগে। আগে এক হাজার টাকায় তিন-চার দিনের বাজার হয়ে যেত। এখন সেই টাকায় সবজি কিনতেই বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কম কিনছি, আবার অনেক সবজি কিনতেই পারছি না।’
আরও পড়ুন: ‘গরিবের পেটে এখন যেন লাথি পড়েছে’
বাজার থেকে বের হওয়ার সময় মিজানুর রহমান আবারও ব্যাগের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘ব্যাগটা দেখলে মনে হবে বেশি কিছু কিনেছি। কিন্তু টাকা গেছে অনেক। এখন বাজারে এসে সবচেয়ে বেশি ভয় লাগে সবজির দোকানে দাঁড়াতে।’
মিরপুর-৬ কাঁচাবাজারে ঘুরে দেখা যায়, শুধু মিজানুর রহমান নন, বাজারে আসা বেশির ভাগ ক্রেতার মুখেই একই ধরনের অভিযোগ। কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু সবজির বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। নিত্যদিনের রান্নায় ব্যবহৃত প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখনো চড়া। ফলে বাজারে এসেও স্বস্তির কোনো খবর পাচ্ছেন না ক্রেতারা।
একই বাজারে গৃহিণী শারমিন সুলতানা সবজির দাম শুনে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছিলেন। শেষ পর্যন্ত আধা কেজি করে কয়েকটি সবজি কিনেই বাজার শেষ করেন।
তিনি বলেন, ‘আগে এক কেজি করে কিনতাম। এখন আধা কেজি করে কিনছি। সংসারের খরচ এত বেড়েছে যে সবজির দামই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে। মাছ-মাংস না কিনলেও চলবে, কিন্তু সবজি তো প্রতিদিনই লাগবে।’
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঝিঙে, বেগুন, কাঁকরোল ও পটোল প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা ও ঢ্যাঁড়শের দাম ১০০ টাকা কেজি। শিমের কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, টমেটো ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং গাজর ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে মিলছে আলু, যার কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগের মতো সবজি ঢাকায় আসছে না। এতে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। সেই বাড়তি দামের প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। তাদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।
মিরপুর-৬ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক ক্রেতাই আমাদের সঙ্গে দাম নিয়ে তর্ক করেন। কিন্তু বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। পাইকারি বাজার থেকেই সবজি বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টি আর উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বন্যার কারণে আগের মতো সবজি আসছে না। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। সেই বাড়তি দামেই আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরাও চাই বাজার স্বাভাবিক হোক, তাহলে বিক্রিও বাড়বে।’
আরও পড়ুন: সবজিতে স্বস্তি, ডিম-মুরগির বাজার চড়া
একই বাজারের আরেক বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, ‘এখন অনেক ক্রেতাই এক কেজির বদলে আধা কেজি বা ২৫০ গ্রাম করে সবজি কিনছেন। কেউ কেউ দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। বিক্রি আগের তুলনায় কমে গেছে। কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমলেও অন্য সবজির দামে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না আসা পর্যন্ত দামে খুব একটা পরিবর্তন হবে বলে মনে হচ্ছে না।’
এএইচ/এমআই




