রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

পুনঃপেনশন ও ভাতা নিয়ে বিপাকে গ্রামীণ ব্যাংকের ১৪ হাজার কর্মকর্তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

পুনঃপেনশন ও ভাতা নিয়ে বিপাকে গ্রামীণ ব্যাংকের ১৪ হাজার কর্মকর্তা 
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে

গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতাদি প্রদানে হাইকোর্টের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি। 

সংগঠনটির দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনও রায় বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি কে এম শহীদুল হক বলেন, ১৯৮৩ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। ফলে সরকার ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রাপ্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃপেনশন, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিট নম্বর ৯৫২৬/২০২১ ও ৬৭৬৫/২০২১-এর শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেন। পরে গত ২২ জুন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

রায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং সরকার ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

কে এম শহীদুল হক জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে শতভাগ পেনশন সুবিধা সমর্পণকারীদের উৎসব ও চিকিৎসা ভাতা, ২০১৬ সালে বাংলা নববর্ষ ভাতা এবং ২০১৮ সালে পেনশন সমর্পণের ১৫ বছর পর পুনঃপেনশন চালুর নির্দেশনা দেয়। দেশের অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এসব সুবিধা বাস্তবায়ন করলেও গ্রামীণ ব্যাংক তা করেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরও অবসরপ্রাপ্তরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখায়নি। বরং নানা অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৯৪ সালে ‘স্বেচ্ছা অবসর’ কর্মসূচির মাধ্যমে এবং পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়। 

এর ফলে প্রায় ১৪ হাজার পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সময়মতো পুনঃপেনশন ও ভাতাদি পেলে এসব পরিবার কিছুটা স্বস্তি পেত বলে দাবি করেন বক্তারা।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এবং হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান সমিতির নেতারা। তারা গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি সহ সভাপতি হাবিবুল ইসলাম, উপদেষ্টা গোলাম মাওলা, মহাসচিব এড সিদ্দিকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আবু মো মতিউর রহমান প্রমুখ। 

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর