মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আল্টিমেটাম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যাংক খাতে লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ২৯টি ব্যাংকের জন্য পৃথক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (এএমসি) কাছে হস্তান্তর করতে হবে বলে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলাপি ঋণ কমানোর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ২৯টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এসব নির্দেশনা দেন। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের বেশি, তাদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা ২০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। আর যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে, সেগুলোকে তা ১০ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে গভর্নর নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধ, পুনঃতফসিল করা ঋণের নিবিড় তদারকি, বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায় জোরদার এবং কৃষি ও এসএমই খাতের গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। 

একই সঙ্গে টক্সিক অ্যাসেট ব্যালান্সশিটে রেখে অনাদায়ী সুদকে আয় হিসেবে দেখিয়ে লভ্যাংশ বিতরণ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

এ ছাড়াও বারবার পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর), এক্সিট সুবিধা বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি, দীর্ঘদিনের শ্রেণিকৃত ঋণ অবলোপনের উদ্যোগ এবং বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় মূলধন বাড়ানোর তাগিদও দেন গভর্নর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ২৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এর মধ্যে ব্যাংক অব পাকিস্তান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
 
একই সময়ে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের এ হার সর্বোচ্চ বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা গেছে।

টিএই/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর