রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের হার না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে করের আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের জন্য এলাকাভিত্তিক ফ্ল্যাট রেট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে করদাতাদের কোনো কর রিটার্ন ফরম পূরণ করতে হবে না; নির্ধারিত ফ্ল্যাট রেট পরিশোধ করে রসিদ রাখলেই হবে। এর ফলে কর কর্মকর্তাদের হয়রানি কমবে এবং আরও বেশি মানুষকে সহজে করের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে মহিলা সংরক্ষিত ৩৩ আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, করের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন খাতে কার্যরত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার অংশীদারত্ব (মার্কেট শেয়ার) নির্ধারণের কাজ চলছে। কোন খাতে কোন প্রতিষ্ঠানের কতটুকু বাজার অংশীদারত্ব রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে কর ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যার যত বেশি মার্কেট শেয়ার, তার সেই অনুপাতে করের দায়ও বেশি হওয়া উচিত। অতীতে এই ধরনের কাজ সেভাবে হয়নি। এখন আমরা প্রতিটি খাতে প্রতিষ্ঠানের মার্কেট শেয়ার নির্ধারণ করছি।
মন্ত্রী বলেন, করের আওতার বাইরে থাকা মানুষকে সহজে অন্তর্ভুক্ত করতে এলাকাভিত্তিক ফ্ল্যাট রেট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করদাতারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ কর পরিশোধ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতিতে কর দিলে কোনো ট্যাক্স ফরম পূরণ করতে হবে না। শুধু নির্ধারিত কর পরিশোধ করে রসিদ রাখলেই হবে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে সহজ এই পদ্ধতিতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে করজালের আওতায় আনা হবে। এরপর সবাই কর নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত হলে ধীরে ধীরে প্রচলিত পূর্ণাঙ্গ করব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
এমএইচএইচ/এফএ




